সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল পরিপূর্ণ। কিন্তু দর্শকদের হতাশই করেছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফিলিপাইনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে স্বাগতিক দলকে। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট, আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিপাইন। ১০ অক্টোবর কক্সবাজারে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে।
শুক্রবার একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল লাল-সবুজ দল। বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল ও বিশ্বনাথ ঘোষ, মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া এবং ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। তাদের জায়গায় একাদশে মিডফিল্ডার ইমন মাহমুদ, ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা ও রহমত মিয়া এবং ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজকে রেখেছেন কোচ জেমি ডে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এসেছিল সুযোগ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো-ইন থেকে এই ম্যাচের অধিনায়ক তপু বর্মণের ব্যাক হেড রুখে দেন ফিলিপাইনের গোলকিপার। ফিরতি বলে নাবিব নেওয়াজ জীবনের হেড বাধা পায় ক্রস বারে। দুই মিনিট পর আরেকটি আক্রমণ থেকে রবিউল হাসানের গড়ানো শট চলে যায় গোলকিপারের হাতে।
২৩ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলের জন্ম। প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণ বুক দিয়ে নামিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তপু। কিন্তু সফল হননি। তার সামনেই থাকা বাহাদোরান মিসাঘ পাস দেন মিকেল ড্যানিয়েলসকে। এই মিডফিল্ডারের শট তপু ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বল তার পায়ে লেগে, গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানার ডান দিক দিয়ে চলে যায় পোস্টে।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশের সামনে ৩৯ মিনিটে ভালো একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু রবিউল হাসানের কর্নার সরাসরি পোস্টে ঢোকার ঠিক আগে ফিলিপাইনকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন গোলকিপার কাসাস।
দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল বাংলাদেশের প্রাধান্য। মতিন মিয়া ও জাবেদ খানের বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হলেও গোলের দেখা মেলেনি। ৪৮ মিনিটে রহমতের আরেকটি লম্বা থ্রো-ইন থেকে তপুর ব্যাক হেড চলে যায় গোলকিপারের গ্রিপে। দুই মিনিট পর একজনকে ডজ দিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লেও পোস্টে শট নিতে ব্যর্থ হন জীবন।
৭০ মিনিটে সবুজের ক্রস থেকে জীবনের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরই ইমন বাবুর কর্নার থেকে সবুজের শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ৮৫ মিনিটে ইব্রাহিমের ক্রস থেকে জাবেদের হেড ধরে ফেলেন প্রতিপক্ষের গোলকিপার। এভাবে একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে হারের দুঃখ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ দলকে।
বাংলাদেশ দল:
আশরাফুল ইসলাম রানা, তপু বর্মণ, টুটুল হোসেন বাদশা, ইমন মাহমুদ, মাশুক মিয়া জনি ( জাবেদ খান), নাবীব নেওয়াজ জীবন, তৌহিদুল আলম সবুজ ( মতিন মিয়া), বিপলু আহমেদ, সুশান্ত ত্রিপুরা, রবিউল হাসান (মোহাম্মদ ইব্রাহিম) ও রহমত মিয়া।







