মেয়েদের প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্ব বাংলাদেশের। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন তারা। দেশের ফুটবলে শিরোপা খরার সময়ে দারুণ এক সাফল্য পেলেন কৃষ্ণা-মার্জিয়ারা। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ট্রফি উৎসব শেষ করে সোমবার দুপুরে দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন তারা। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন প্রশংসায় ভাসালেন তার খুদে শিষ্যদের।
প্রথম আসরে শিরোপা জেতা আনন্দকে করেছে দ্বিগুণ। বাংলাদেশের কোচ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন সেই কথা, ‘শিরোপা জিতলে সবসময়ই ভালো লাগে। আর কোনও টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হলে তো ভালো লাগাটা স্বাভাবিকভাবে আরও বেশি।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে বাংলাদেশ। প্রত্যেক ম্যাচে তাদের দারুণ পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে গোলাম রব্বানীকে, ‘মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে। পাকিস্তানকে আমরা ১৭-০ গোলে হারিয়েছি, সেটা বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দল মিলিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় জয়। এরপর নেপালকে গ্রুপ পর্বের পর ফাইনালেও হারিয়েছি। ভুটানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জিতলাম দাপট দেখিয়ে। আমি বলব, প্রত্যেক ম্যাচে মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে।’
ফাইনালে দলের পারফরম্যান্স আগের ম্যাচগুলোর মতো দাপুটে ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধের একমাত্র গোলে জেতে বাংলাদেশ। এনিয়ে কোচের ব্যাখ্যা, ‘নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে পুরোটা আধিপত্য ছিল আমাদের। প্রথমার্ধে খেলা হয়েছিল সমানে সমান। তারপরও দলের খেলায় আমি অবশ্যই খুশি। নেপাল ভালো দল, তারাও ভালো খেলার চেষ্টা করেছে। দুই দলের মধ্যে প্রাণবন্ত খেলা হয়েছে। তার মধ্যেও প্রথমার্ধে সুযোগ তৈরি করেছে মেয়েরা। যেমন কৃ্ষ্ণা ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। তবে সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটি ম্যাচেই মেয়েরা সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে।’
এখানেই বাংলাদেশ থেমে থাকুক চান না গোলাম রব্বানী। আরও উন্নতি করতে হবে মনে করেন তিনি, ‘আসলে উন্নতির সুযোগ সব বিভাগেই আছে। তারা এখন যে পর্যায়ে আছে সেখানে থেকে উপরে যেতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে। উন্নতির কোনও শেষ নেই।’
এই দলকে নিয়ে পরের মিশন এরই মধ্যে ঠিক করে ফেলেছেন কোচ, ‘এই অক্টোবরের শেষ দিকে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই খেলব। আপাতত এই টুর্নামেন্টের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’







