প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ফিফা কাউন্সিল সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ। এবার বাফুফে ভবনের সামনে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে ‘ফুটবল সমর্থক’ ব্যানারে আসা কয়েক’শ সমর্থক। তাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে বাফুফে থেকে কিরণকে অপসারণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মতিঝিলে অবস্থিত বাফুফে ভবনের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হতে থাকে সমর্থকরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে নানারকম স্লোগান। ‘ফুটবল সমর্থক’ ব্যানারে স্থানীয় ক্লাবের সঙ্গে সেখানে ছিলেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাইনু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মাতৃতুল্য। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যিনি কটূক্তি করেছেন, ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমাদের মানববন্ধন ও এই কর্মসূচি। আমরা চাই বাফুফের সব পদ থেকে মাহফুজা আক্তার কিরণকে অপসারণ করা হোক।’
একই ওয়ার্ডের যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসানউদ্দিন জামিলের বক্তব্য, ‘মাহফুজা আক্তার কিরণকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমরা দাবি ছাড়ব না। অবশ্যই তাকে বাফুফে থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ফেডারেশনের সভাপতি (কাজী) সালাউদ্দিন সাহেব বা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর (জাহিদ আহসান রাসেল) মাধ্যমে এই বিষয়ে আশ্বস্ত হতে চাই। তা না হলে এখান থেকে আমাদের অবস্থান ছাড়ব না।’
বিষয়টি নিয়ে মাহফুজা আক্তার কিরণের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এই বিষয়ে তেমন মন্তব্য করতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন, ‘মাহফুজা আক্তার কিরণের আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী এবং বাফুফের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কোনও কিছু বলার থাকলে সভাপতিই বলবেন, কিংবা তার আইনজীবী বলতে পারবেন।’
এ প্রসঙ্গে বাফুফে থেকে সালাম মুর্শেদীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি শিগগিরই সভা করবেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ফিফার কাউন্সিল সদস্য ও বাফুফে কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ বর্তমানে জামিনে আছেন। ক্রীড়া সংগঠক আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্সের করা মামলায় কিরণের বিরুদ্ধে ১২ মার্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ১৬ মার্চ তার জামিন নামঞ্জুর হয়। এর তিন দিন পর জামিন পান তিনি।
ছবি: তানজীম আহমেদ।







