ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে। কার্ডিফ বাদ দিলে বাকি আয়োজনটা ইংল্যান্ডের। যদিও ২২ গজের বিশ্ব আসর নিয়ে ইংলিশদের আগ্রহ এখন সামান্যই। তারা মেতে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে। বিশ্বকাপের বছরেই যে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সেরা প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ডের দুই ক্লাব লিভারপুল ও টটেনহাম। তাই শিরোপা যেই জিতুক, উৎসব হবে ইংল্যান্ডেই।
আজ (শনিবার) সেই উৎসবের দিন তাদের। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টায় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানোয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মুখোমুখি হবে লিভারপুল-টটেনহাম। মহারণটি সরাসরি দেখা যাবে সনি টেন টু চ্যানেলে।
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার হতে যাচ্ছে ‘অল ইংলিশ’ ফাইনাল। ২০০৮ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-চেলসি। গত কয়েক মৌসুম ধরে চলা স্প্যানিশ রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে আরেকবার জ্বলে উঠেছে ইংলিশ ফুটবলের আলো। যেখানে লিভারপুল নামতে যাচ্ছে তাদের ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার খোঁজে, বিপরীতে টটেনহাম এবারই প্রথম নামতে যাচ্ছে প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে।
দুই দলই রুপকথায় জন্ম দিয়ে উঠেছে ফাইনালে। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ৩-০ গোলে হেরেছিল লিভারপুল। ঘরের মাঠের ফিরতি লেগে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ৪-০ গোলের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে অলরেডস। টটেনহাম আবার আয়াক্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠেই হেরে বসেছিল ১-০ ব্যবধানে। ডাচ ক্লাবটির মাঠে ফিরতি লেগের শুরুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বিদায়ের বিষাদ সুর শুনতে শুরু করেছিল তারা। যদিও ঘুরে দাঁড়ানোর দুর্দান্ত নজির স্থাপন করে প্রথমবার উঠে যায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে।
সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি স্পারদের সেরা অস্ত্র হ্যারি কেইন। তবে এই স্ট্রাইকার ফিরতে পারেন ফাইনালে। লিভারপুলেরও চোটের সমস্যা ছিল শেষ চারের লড়াইয়ে। অ্যানফিল্ডের দ্বিতীয় লেগে খেলতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহ ও রবের্তো ফিরমিনো। সালাহ আগেই ফিরেছেন, আর ফিরমিনোর ব্যাপারেও আশাবাদী অলরেডস কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ।
প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার মেনেছে লিভারপুল। এই আক্ষেপ তারা জুড়াতে চায় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে। কিন্তু ক্লপের সাম্প্রতিক ফাইনাল রেকর্ড মোটেও স্বস্তিতে রাখছে না। টানা ছয় ফাইনাল হেরে মাদ্রিদের ডাগ আউটে নামতে যাচ্ছেন এই জার্মান কোচ! যদিও তা নিয়ে ক্লপের ভাবনা নেই বললেই চলে, বলেছেন, ‘ছয় ফাইনালে হার অনেককেই হতাশ করছে। তবে এটা কোনও বিষয়ই না।’
মাউরিসিও পোচেত্তিনোর সামনে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জেতার হাতছানি। এই আর্জেন্টাইন কোচের লক্ষ্য, ‘ইতিহাস লেখার’, আর সেজন্য ‘নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত টটেনহাম।’ আয়াক্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার প্রমাণ রেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি, যেমনটি বার্সেলোনার বিপক্ষে দেখিয়েছে লিভারপুল।
মাদ্রিদে তাই অপেক্ষা করছে উত্তেজনায় ঠাসা এক ম্যাচ। তবে এই মহারণে যেই জিতুক, উৎসবটা হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডেই। উয়েফা ডটকম








