বাংলাদেশ ও ভুটানের প্রথম প্রীতি ম্যাচে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের বৃষ্টিভেজা মাঠ ছিল আলোচিত বিষয়। কর্দমাক্ত মাঠে অতিথি দলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। হারের পর ভুটান কোচ বলেছিলেন, এমন মাঠে বাংলাদেশের কাছে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচের প্রতিপক্ষ কাতারও হেরে যাবে। কিন্তু ওই জয় যে অস্বাভাবিক নয়, এবার সেটা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ টানা জিতে। এজন্য আক্রমণাত্মক খেলার বিকল্প নেই মনে করেন কোচ জেমি ডে।
বৃহস্পতিবার ভুটানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ জিতে পাওয়া আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিতে চায় তারা এই ম্যাচে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কাতার ও ভারতের ম্যাচে টানা জয় উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করবে মনে করেন কোচ জেমি। ওই দুই ম্যাচে চোখ রেখে বুধবার ভুটানের বিপক্ষে লড়াইয়ের শেষ অনুশীলন সেরেছে জামাল ভূঁইয়ারা।
কমলাপুর স্টেডিয়ামে কড়া রোদের মধ্যে কঠোর অনুশীলন করেছেন ফুটবলাররা, বিশেষ করে সেট পিস নিয়ে। একদিক দিয়ে অধিনায়ক জামাল কর্নার নিয়েছেন, অন্য দিকে জীবন-সাদরা লক্ষ্যভেদে ব্যস্ত ছিলেন। ভুটান ম্যাচের আগে এই সেট পিস নিয়ে আলাদা কাজ করার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন জেমি, ‘আলাদা কাজ করার কিছু নেই, সচরাচর যা করি তাই করছি। সেট পিস থেকে যদি আমরা সুযোগ পাই সেটা যেন শতভাগ কাজে লাগাতে পারি, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। কেন না শুধু ভুটানের কথা চিন্তা করলে হবে না। সামনে আমাদের কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। সেই ম্যাচে হয়তো সুযোগ কম আসবে। যেটুকু সুযোগ পাবো, সেটা যেন কাজে লাগাতে পারি সেই চেষ্টা থাকবে।’
ভুটানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে পরিকল্পনায় তেমন হেরফের হচ্ছে না। জেমি বলেছেন, ‘আগের মতোই খেলবে দল- আক্রমণাত্মক ফুটবল। পিচ যেমনই থাকুক না কেন, আমরা জয়ের জন্য খেলবো। এর বিকল্প নেই।’
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সপ্তাহখানেক পর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে কাতারের বিপক্ষে। আগামী ১০ অক্টোবর বিশ্বকাপের আয়োজক দলকে আতিথ্য দেবে তারা। খুব বেশি সময় নেই, তাই ভুটান ম্যাচের আগে ঘুরেফিরে এলো কাতার প্রসঙ্গ। জেমি বলেছেন, ‘ভুটানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জিততে পারলে দল আরও উজ্জীবিত থাকবে। তখন বড় দলের বিপক্ষে খেলতে সুবিধা হবে। তবে কাতার কঠিন প্রতিপক্ষ। সেই ম্যাচ আমাদের জন্য সহজ হবে না। ওই ম্যাচের জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে।’
ভুটান কোচ পেমা দর্জি গত ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, বৃষ্টিভেজা মাঠে কাতারও হেরে যাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। তেমন কিছু হলে স্বাগতিকরা আসলেই সুবিধা পাবে কিনা প্রশ্নে জেমির সোজাসাপ্টা জবাব, ‘যদি ওই ম্যাচে বৃষ্টিও হয়, তারপরও কাতার আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। আমরা হয়তো তেমন সুযোগ পাবো না, যা পাবো সেটা কাজে লাগাতে হবে। তারা আমাদের বিপক্ষে জিততে আসবে। তবে সেটা হতে দেওয়া যাবে না। তার আগে ভুটানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে ফিফা র্যাংকিংয়ে উ্ন্নতি করতে হবে।’
বাংলাদেশের কাছে চার গোল খেয়ে ভুটান বেশ চাপে। তাদের কোচ পেমা ওই হতাশা কাটিয়ে উঠতে চান। অনুশীলন মাঠে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এই ম্যাচ জেতা। এক ম্যাচ আমরা হেরেছি, এবার আর হারতে চাই না।’
কোচের প্রত্যাশা এই ম্যাচে অন্তত বৃষ্টি না আসুক। প্রতিপক্ষকে এক ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন পেমা, ‘এই ম্যাচে বৃষ্টি বাধা না থাকলে লড়াই অন্যরকম হবে। শুষ্ক মাঠে বাংলাদেশ হয়তো আরও ভালো খেলতে পারে। তবে আমরা কম নই। লম্বা পাস নাকি ছোট পাসে খেলবো, সেটা নির্ভর করছে ট্যাকটিকসে ওপর। এখনই সেটা বলতে চাই না। ম্যাচের আগে এটা নির্ধারণ করবো।’








