ফুটবলের মাঠে উচ্ছৃঙ্খল সুয়ারেজ কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে অনুসরণীয় এক উদাহরণ! খুবই গরীব ঘরের সন্তান ছিলেন সুয়ারেজ। অনেকে তাকে ব্যঙ্গ করে 'ময়লার সুয়ারেজ'ও বলেন। তবে এটাও সত্য ছোটবেলায় গরীব এই সুয়ারেজ কাজ করতেন সুইপার হিসেবে। বয়সটা তখন ১৫ ছুঁই ছুঁই। তখনই অবুঝ কিশোর সুয়ারেজের মনের মন্দিরে দেবীর আসনে স্থান করে নেন সোফিয়া বেলবি। কথা হচ্ছে সেই ২০০১ সালের। যখন ক্যারিয়ারে ফুটবলের সঙ্গে চেনাজানাও হয়নি সুয়ারেজের। সেসময় সুইপারের (পরিচ্ছন্নকর্মী) কাজ করেই দিন গুজরান হতো তার। অন্যের আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করে পাই পাই পয়সা জমিয়ে বর্তমান জীবন সঙ্গীনি সোফিয়াকে নিয়ে প্রথম ডেটিংয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। অার এক অর্থে বলা যায় সোফিই সুইপার সুয়ারেজকে বানিয়ে তোলেন ফুটবলার সুয়ারেজ! শুনতে হয়তো অবিশ্বাস্যই লাগবে। সুয়ারেজের সঙ্গে পরিচয়ের কিছুদিন পরেই স্বর্ণকেশী সোফিয়া স্বপরিবারে পাড়ি জমান স্পেনের বার্সেলোনায়। যেটা সুয়ারেজের জীবনে রীতিমত অাশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। কারণ ওই স্বর্ণকেশীর খোঁজেই ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে সুয়ারেজের। সোফির সঙ্গে দেখা করার টাকা যোগারের জন্যে ইউরোপে খেলতে পাড়ি জমান সুয়ারেজ। বোঝাই যাচ্ছে 'ভয়ঙ্কর' আর 'মানুষখেকো' তকমা পাওয়া সুয়ারেজ একেবারে নাছোড়বান্দা প্রেমিক পুরুষ। সোফি বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর পর বিরহকাতর তিনটি বছর মজনু সুয়ারেজের জন্য কঠিনই ছিল। এরপরই অাসে কাঙ্ক্ষিত সেই সময়। ডাচ দল গ্রোনিংগেনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন সুয়ারেজ। সুতরাং নেদারল্যান্ডস যেতে পারলে স্পেন আর কতদূর। পরবর্তীতে এ প্রসঙ্গে সুয়ারেজ বলেন, 'বয়স যখন ১৫ ছিল, তখনই অামি এক মনের মানুষের দেখা পাই। যে অামার পুরো জীবনটাই পাল্টে দিয়েছিল। কারণ তারই কারণে অামি বুঝতে পেরেছি ফুটবলই অামার জীবন।' বান্ধবী সোফিকেই পরে বিয়ে করেন সুয়ারেজ। যাদের ঘর অালো করে অাসে দুই সন্তান। তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ২০১০ সালের ৫ আগস্ট। প্রথমটি মেয়ে, নাম ডেলফিনা। এর তিন বছর পরই সুয়ারেজের ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে একটি ছেলে। নাম বেঞ্জামিন। মাঠে যতই বুনো হন না কেন। ব্যক্তি জীবনে সুয়ারেজ কিন্তু দায়িত্ববান একজন স্বামী। হবেনই না কেন! এই স্ত্রী সোফির কারণেই জীবনে এতদূর অাগাতে পেরেছেন সুয়ারেজ। এমনটা বলেছেন লিভারপুল কোচ ব্রেনডন রজার্স। তার দেওয়া ভাষ্যমতে, 'সোফিয়াই সুয়ারেজের জীবনের মূল ভিত্তি। কারণ ওকে ফিরে পেতেই দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে সুয়ারেজ। অার ওদের প্রেমকাহিনী সত্যিই যেনো এক রূপকথা।' আর অন্যান্য নামিদামি খেলোয়াড়দের মত তার নামে তেমন কোনও কেলেংকারি অর্থাৎ নারীঘটিত কেলেংকারি নেই বলে জানা জানা গেছে। বলা যায় স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত একনিষ্ঠ এক প্রেমিক এই সুয়ারেজ। সুয়ারেজ গরীব থাকলেও সোফিয়া ছিলেন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। তবে মধ্যবিত্ত ঘরের হয়েও এই সুয়ারেজকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছিল সোফিয়ার পরিবার। অার এ কারণেই সুইপার সুয়ারেজ এখন নামিদামি ফুটবলারের খাতায় নাম লেখাতে পেরেছেন।








