‘ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ এত ভালো খেলবে, চিন্তাও করিনি’

তানজীম আহমেদ, চট্টগ্রাম থেকে
২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:১৭আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৪

মোহনবাগানের ম্যানেজার সঞ্জয় ঘোষ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ১৫ অক্টোবরের সেই ম্যাচটি জেমি ডে’র দলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ খেলতে আসা ভারতের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগানের ম্যানেজার সঞ্জয় ঘোষও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ।

সল্ট লেকে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। এতটা ভালো করবে, প্রত্যাশা ছিল না সঞ্জয়ের। অবাক হয়েছিলেন মোহনবাগানের ম্যানেজার, ‘সেদিন (১৫ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। আগে গোল পেয়েছে। তাদের জয়ের সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু শেষের দিকে এসে ভারত ম্যাচে সমতা ফেরায়। সেদিন যে বাংলাদেশ এত ভালো খেলবে, তা চিন্তাও করিনি।’

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। প্রথম দলটি ১৩০ বছরের পুরনো, পরেরটি পা দিয়েছে শতবর্ষে। দুই দলের কেবিনেটে অসংখ্য ট্রফির সমাহার। এখনও তাদের দ্বৈরথ উন্মাদনা ছড়ায়। বিভক্ত হয়ে যায় কলকাতা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইস্টবেঙ্গলের তেমন কোনও সাফল্য নেই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের হয়েও বিষয়টি ভাবাচ্ছে সঞ্জয়কে।

কেন? মোহনবাগানের এই ম্যানেজারের কাছ থেকেই শুনুন, ‘ইস্টবেঙ্গল না থাকলে মোহনবাগান থাকতো না। আবার মোহনবাগান না থাকলে ইস্টবেঙ্গল থাকতো না। দুটি দলই সমান্তরালে না থাকলে কোনও মূল্য নেই। আমরা চাই না ইস্টবেঙ্গল শেষ হয়ে যাক। বরং তারা থাকলে লড়াইটা সেভাবে থাকবে। আকর্ষণটা বজায় থাকে। এই দুই দলের লড়াইয়ে যে রঙ ছড়ায়, তা অন্য কোনও দলের লড়াইয়ে নেই।’

কলকাতার জনপ্রিয় ক্লাব দুটি এখন পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখলেও বাংলাদেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ হারিয়েছে তার ঐতিহ্য। তবে কলকাতার দুটি দলের জন্য ট্রফি জেতা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সঞ্জয় অবশ্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন, ‘ফুটবলটা এখন ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রদেশের দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে। তাই এখন আর আগের মতো মোহনবাগান কিংবা ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে শিরোপা লড়াই সীমাবদ্ধ নেই।’

কলকাতার ফুটবলে একসময় মোনেম মুন্না-রুমি-আসলামরা মাঠ কাঁপিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মুন্না ব্যাপক জনপ্রিয়তা অজর্ন করেছিলেন। এছাড়া সনি নর্দে শেখ জামাল থেকে গিয়ে সাফল্য পেয়েছেন মোহনবাগানে। ক্লাবটির আই-লিগ শিরোপা জয়ে হাইতির এই ফরোয়ার্ডের অবদান ছিল অনেক।

যদিও কলকাতার ক্লাবগুলোতে এখন বাঙালি ফুটবলারদের দাপট কমে এসেছে। ক্রিকেটের দাপটটাই যেন একটু বেশি। সঞ্জয়ের বক্তব্য, ‘ফুটবলে বাঙালি ছেলেরা কম আসছে ক্রিকেটের দাপটে। বাবা-মা চাইছে কোনোভাবে শিকে ছিঁড়ে ছেলে যদি সৌরভ গাঙ্গুলী হতে পারে, তাহলে তার আর কোনও চিন্তা নেই। এটা কিন্তু অন্য কোনও কারণে নয়, সামাজিক প্রেক্ষিতে কমে গেছে। ক্রিকেটের যে দাপট, পয়সা, গ্লামার, সেটা একটু হলেও নতুন প্রজন্মকে টানছে।’

/টিএ/কেআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ