বন্দর নগরী চট্টগ্রামের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ট্রফির সঙ্গে তাদের ব্যবধান কেবল একটি জয়। জামাল ভূঁইয়া নাকি লি টাক, কার হাতে উঠবে ট্রফি? ২০১৫ সালের পর দ্বিতীয় শিরোপা জিততে পারবে আবাহনী নাকি নতুন দল হিসেবে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু এফসির মুখে ফুটবে হাসি! এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজ বৃহস্পতিবার রাতে। সন্ধ্যা ৬টায় এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। বাংলা টিভি ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
শক্তির পাল্লায় কোনও দলই তেমন পিছিয়ে নেই। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত দুই দলই তাদের সামর্থ্য দেখিয়েছে। চার ম্যাচে ১৩ গোল করেছে তেরেঙ্গানু, খেয়েছে ৭টি। চট্টগ্রাম আবাহনী দিয়েছে ১১টি, খেয়েছে ৫টি। তবে সাফল্যের বিচারে কিন্তু তেরেঙ্গানু এক ধাপ এগিয়ে। এখন পর্যন্ত অপরাজিত দল তারাই।বিপরীতে চট্টগ্রাম আবাহনী গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হেরেছে। যদিও ওই ম্যাচে মারুফুল হক সেরা একাদশ খেলাননি।
তবে দুই দলই ট্রফি জেতার জন্য আগেভাগেই হুঙ্কার দিয়ে রেখেছে। চট্টগ্রাম আবাহনীর আছে জামাল ভূঁইয়া, চার্লস দিদিয়ের ও চিনেদু ম্যাথিউর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, যারা গোল খেয়েও হতোদ্যম হয় না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে থাকে। গোলও করে থাকেন।
তেমনি তেরেঙ্গানুতে লি টাক,ব্রুনো সুজুকি ও সাইফিক বিন ইসমাইল কম যাচ্ছেন না। লি টাক তো টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন। ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতাও। সেট পিসে এখন পর্যন্ত বৈচিত্র্য দেখিয়ে যাচ্ছেন এই প্লে মেকার।
তারাই মূলত দুই দলকে টেনে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তাই স্বাভাবিকভাবে ফাইনালে তাদের ওপরই স্পটলাইট থাকছে। দুই দলের খেলোয়াড় ছাড়াও ডাগ আউটে লড়াই হবে কোচদেরও। ট্যাকটিকালি কোন দল ভালো খেলতে পারে, সেটারও প্রমাণ হবে আরও একবার। দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা কোনও ছাড় দিচ্ছেন না। তবে নিজেদের মাঠে চট্টগ্রাম আবাহনীর আত্মবিশ্বাস যেন একটু বেশি। ধারে অন্য দল থেকে কোচ ও খেলোয়াড় এনে ফাইনালে উঠে দারুণ চমকই দেখিয়েছে।
এই দলটি যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়,তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। ফাইনালে শতভাগের বেশি দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের আটকে দেওয়ার মিশন নিয়ে খেলবে তারা। সেই সঙ্গে নিজেদের কাজটি করে দেখানোর লক্ষ্য তো আছেই। প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়ে নিজেদের রক্ষণভাগ অটুট রাখার মিশন। ৯০ মিনিট শেষে বিজয়ের চওড়া হাসি হাসতে চাইছে যে চট্টলার দলটি।
স্থানীয় দল হিসেবে চট্টগ্রাম আবাহনী ফাইনালে খেলবে।তাই গ্যালারি ভর্তি দর্শক থাকবে। তাদের সমর্থন নিয়ে মারুফুল হকের শিষ্যদের এগিয়ে চলার মিশন। চার বছর পর তাদের সামনে আবারও ট্রফি উঁচু করে ধরার সুযোগ হাতছাড়া হবে কেন! শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমে সফলতার গানই যে শোনাতে চাইবেন জামাল-ম্যাথিউরা। ট্রফি জিতে রাতটি যে স্বরণীয় করে রাখতে হবে!







