সহকর্মীরা যখন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন, জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু তখন মাঠের বাইরে স্রেফ দর্শক! অন্য সবার মতো এই মৌসুমে যে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাননি! অথচ এই প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশিল কোচ হিসেবে মিন্টুর বেশ নামডাক । কোচিং পেশায় এসে মুদ্রার ওপিঠও যে দেখতে হয়, সেই বাস্তবতার মুখোমুখি এখন সাবেক এই ফুটবলার।
তবে এ নিয়ে চিন্তিত নন মিন্টু। ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন সবকিছু। আত্মমর্যাদাকে সঙ্গী করে এগিয়ে যেতে চাইছেন। চাকুরির জন্য নিজের ‘ব্যক্তিত্বকে’ বিকিয়ে দিতে নারাজ। কোনও দলের হয়ে কোচিং না করালেও নিয়মিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এসে খেলা দেখছেন। হয়তো স্বপ্নের চারাগাছ লালন করে চলেছেন নিজের মধ্যে।
মিন্টু অবশ্য বর্তমানে কাজ না থাকাটাকে সমস্যা মনে করছেন না। সরাসরি বলে দিয়েছেন, ‘কোনও দলের হয়ে কোচিং করাতে পারছি না, আসলে এটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাইও না। আমি এখানে টাকা কামাতে আসিনি যে কাজ না পেলে হা-হুতাশ করবো। কাজ পাওয়ার জন্য মরিয়া নই।’
২০১২ সালে আবাহনী লিমিটেডে সহকারী কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। এরপর শেখ রাসেল ও শেখ জামাল হয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রধান কোচের দায়িত্ব পান। টানা দুই মৌসুম বন্দর নগরীর দলটির দায়িত্বে থেকে গত মৌসুমের শেষে নিজেই অব্যাহতি নেন। মাঝে জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে।
চট্টগ্রাম আবাহনী কেন ছেড়ে এলেন? মিন্টুর কথায় ইঙ্গিতটা পরিষ্কার যে ওখানে শেষদিকে কাজের ভালো পরিবেশ পাননি, ‘আমি সততার সঙ্গে কোচিং পেশায় আছি। এখানে অন্য কিছু ভাববার নেই। আসলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ যদি ঠিক না থাকে তাহলে কাজ করে আনন্দ পাওয়া যায় না। দেখা গেছে আমার চেয়ে নিচে যারা আছে তারাই অনেক সময় কোচিংয়ে জ্ঞান দিতে আসে। এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। তাই নিজেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’
মিন্টু চট্টগ্রাম আবাহনীর দায়িত্ব ছেড়ে এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোর কোচের পদও খালি নেই । নতুন মৌসুমে তাকে বসে থাকতে হতে পারে। এমনটি জেনেও কঠিন সিদ্ধান্তটা নিতে সময় নেননি,‘আমি জানি যে পরবর্তী মৌসুমে হয়তো বসে থাকতে হবে। কিন্তু তারপরও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। কোচিং ভদ্রলোকের পেশা। যদি আমার কাজ পছন্দ না হয় তাহলে বিদায় করে দেবে। কিন্তু আমার থেকে নিচের কেউ যদি কোচিং শেখাতে আসে তাহলে সেটা সহ্য করা যায় না।’
১৯৯১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ঘরোয়া ফুটবলে খেলেছেন মিন্টু।ঢাকা আবাহনী লিমিটেডে একটা উজ্জ্বল সময় কাটিয়েছেন। জাতীয় দলে খেলেছেন ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত। ৪২ বছর বয়সে কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে বড় স্বপ্নই দেখেন সাবেক এই উইঙ্গার,‘বর্তমানে কোচিং না করালেও আমি কোচিংয়ের ওপর পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। এএফসি ‘এ’ লাইসেন্সের কিছু কাজ বাকি ছিল। সেটা নিয়ে আছি। প্রো করার ইচ্ছা আছে। এছাড়া বেশ কিছু ট্যাকটিকস নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে পেপ গার্দিওলার ট্যাকটিস নিয়ে পড়াশোনা করছি। যেন ভবিষ্যতে কোচিং করানোর সুযোগ এলে ট্রেনিং সেশনে নতুনত্ব আনা যায়। আমি আধুনিকতায় বিশ্বাস করি।’







