নতুন মৌসুমে ঢাকা আবাহনী যেন অদম্য। আগের ম্যাচে চার গোলে উড়ে গিয়েছিল পুলিশ এফসি। আজ বৃহস্পতিবার আরামবাগ ক্রীড়াসংঘও আবাহনীর কাছে পাত্তা পেল না। ফেডারেশনে কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আকাশি-হলুদ জার্সিধারিরা ৫-১ গোলে হারিয়েছে আরামবাগকে। টানা দুটি বড় জয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। আবাহনীর সঙ্গে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পুলিশ এফসিরও নকআউট পর্ব নিশ্চিত হলো। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ হেরে রিক্তহাতে বিদায় হলো আরামবাগের।
আবাহনীর জন্য সুখবর যে, তাদের পাঁচ গোলের চারটিই করেছেন স্থানীয় খেলোয়াড়েরা। একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন মারিও লেমোস। মামুনুল,আলা নাসের,মোহাম্মদ সোহেল রানা ও জুয়েল রানা একাদশে জায়গা পেয়েই জ্বলে উঠেছেন। কখনও দুই উইং দিয়ে, কখনও মধ্যমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে একের পর এক গোল পেয়েছে আবাহনী।
একপর্যায়ে আবাহনীর আক্রমণের মুখে আরামবাগ দিশেহারা হয়ে পড়ে। শক্তিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা যে কত এগিয়ে তা মাঠের লড়াইয়ে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। যদিও ম্যাচের চারটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৯ মিনিটে আবাহনীর প্রথম গোল। জুয়েল রানার কাটব্যাক থেকে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা জোরালো শটে জাল কাঁপান।
এক গোলে পিছিয়ে পড়া আরামবাগ ১৮ মিনিটে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। মিসরের মোস্তফা মাহমুদের কাটব্যাকে ইমরান রুবেলের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে না গেলে গোল হতে পারত। বিরতির আগ পর্যন্ত ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি আবাহনী।
তবে দ্বিতীয়ার্ধেই দুর্বার আবাহনী,দুমড়ে মুচড়ে ফেলে তারা আরামবাগকে।৫২ মিনিটে রায়হানের পাসে নাবীব নেওয়াজ জীবন প্লেসিং করে দেন ২-০। পরের মিনিটে জুয়েল গোলকিপারকে কাটিয়েও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
৬৭ মিনিটে রায়হানের লম্বা থ্রো-ইন থেকে ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিন হেডে ৩-০ করেন।
৭৩ মিনিটে সানডের পাসে মামুনুল বাঁ পায়ের জোরালো শটে ৪-০ করেন। ৮০ মিনিটে রুবেল মিয়ার ক্রসে বদলি ফয়সাল আহমেদ শীতল হেডে দলকে পঞ্চম গোল এনে দেন। প্রতি আক্রমণে উঠে আরামবাগ হঠাৎ গোল পেয়ে যায়,৮৫ মিনিটে (৫-১)। ডান প্রান্তের ক্রস থেকে মুরাদ হোসেন চৌধুর প্লেসিং শটে সান্ত্বনাসূচক গোলটি আসে।
বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস খুশি, ‘প্রথমার্ধে যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলে আমরা গোল চার গোল পেয়েছি। এমন পারফরম্যান্সে আমি আশাবাদী।’
মৌসুমসূচক টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে আরামবাগ কোচ জাহিদুর রহমান মিলন তৈরি হচ্ছেন লিগের জন্য, ‘স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে ফেডারেশন কাপ খেলতে হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে আমাদের কোনও প্রত্যাশা ছিল না।এখন লিগের জন্য প্রস্তুতি নেবো।’








