দুইবার পিছিয়ে পড়ে সমতায় ম্যাচ শেষ করা। এজন্য আবাহনী প্রশংসা কুড়াতেই পারে। কিন্তু ড্র যখন ঘরের মাঠে, তখন তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। কোচ মারিও লেমোস ম্যাচ শেষে আঙুল তুলেছেন খেলোয়াড়দের দিকে। তার মতে, জেতার আগ্রহই ছিল না জীবনদের। কোচের এই ‘অভিযোগ’ অস্বীকারও করছেন না আবাহনীর খেলোয়াড়েরা।
এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের শুরু ভালো হয়নি আবাহনীর। দুইবার পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছে মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশনের সঙ্গে। ঘরের মাঠের ২-২ গোলের ড্রতে ১২ ফেব্রুয়ারি ফিরতি লেগ জিততেই হবে আকাশি-হলুদদের। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে তাদের। কোচ লেমোস নিজেও হতাশ। খেলোয়াড়দের জেতার মানসিকার অভাব দেখেছেন ৩৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচ।
খেলোয়াড়েরাও পরোক্ষভাবে তা স্বীকার করছেন। মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম যেমন বলেছেন, ‘আমরা গোলের সুযোগ বেশি পেলেও দুটির বেশি করতে পারিনি। ওদের (মাজিয়া) স্ট্রাইকাররা ভালো মুভ করেছে। তবে হ্যাঁ, আমরা নিজেদের খেলাটা আরও ভালোমতো খেলতে পারলে হয়তো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতাম।’
শুরু থেকে আবাহনীর খেলাতে গতি ছিল না। মামুনুল এজন্য দীর্ঘদিন খেলার মধ্যে না থাকাটাকে কারণ হিসেবে দেখছেন, ‘আমরা অনেক দিন পর ম্যাচ খেলেছি। তাই এএফসি কাপে শুরুটা হয়েছে কিছুটা ধীরগতিতে। আরও দ্রুতগতিতে খেলা উচিত ছিল। তবে একটা দিক ভালো হয়েছে- এখন আমরা ওদেরকে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। এখন মালেতে গিয়ে কিছু করতে হবে। চাপ কিন্তু আমাদের নয়, ওদেরই বেশি। ওদের ড্র করতে হবে। আর আমাদের গোল খাওয়া চলবে না, গোল দিতে হবে।’
স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন হোম ম্যাচে উইং থেকে আক্রমণে শামিল হয়েছিলেন। মামুনুলের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনিও বললেন, ‘অনেক দিন না খেলার কারণে সেদিন আমরা কিছুটা অগোছালো ছিলাম। ওরা খেলার মধ্যে থাকায় এগিয়ে ছিল। যদি আমরা নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকতাম, তাহলে আমাদেরও ভালো খেলা উপহার দেওয়ার সুযোগ থাকতো। এখন আমাদের পরের পর্বে যাওয়াটা কঠিন হয়ে গেল। তবে অসম্ভব কিছু না।’
নিজেদের মধ্যে সমন্বয় আরও বেশি ভালো করার লক্ষ্য জীবনের, ‘আমাদের জেতার মানসিকতা কম ছিল। এটা না খেলার কারণেই হয়েছে। যদি উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে হারাতে পারি, তাহলে মাজিয়াকেও হারানো সম্ভব।’








