এভারটন আর ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচ জিতলেই হতো। এপ্রিলের আগেই প্রথম দল হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ট্রফিটা নিশ্চিত করে একটি রেকর্ড গড়তো লিভারপুল। কিন্তু ৩ এপ্রিল পর্যন্ত লিগ বন্ধ থাকায় সেটা অসম্ভব। ইউরোপজুড়ে করোনাভাইরাসের ছোকলে অনেকের মনে শঙ্কা, আবার মাঠে গড়াবে তো ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ! যদি না-ই হয়, তাহলে কী হবে লিভারপুলের শিরোপা-ভাগ্যের?
চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের অনেক অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। সংক্রমণ ঠেকাতে বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্ট ও প্রতিযোগিতা বাতিল এবং স্থগিত হয়েছে। সিরি ‘আ’, লা লিগা, লিগ ওয়ান, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগের পর সর্বশেষ বন্ধ হলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। শিরোপার পথে অনেক এগিয়ে থাকা লিভারপুলের জন্য নিঃসন্দেহে এটি বড় ধাক্কা। লিগ যদি আগেভাগেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়, তাহলে তাদের ভাগ্যে কী আছে সেটা অজানাই থাকছে।
দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, করোনার কারণে এই মৌসুম এখানেই শেষ হয়ে গেলে লিভারপুলকেই প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নের মুকুট দেওয়া হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। লিভারপুল ইকো জানিয়েছে, মৌসুম আগেই শেষ করতে বাধ্য হলে ফলাফল কী হবে সেটা নিয়ে আলোচনায় বসবেন প্রিমিয়ার লিগের কর্তাব্যক্তিরা।
করোনার সংক্রমণ রোধে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের আগে নির্দেশ দিয়েছিল, পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানো যাবে না। ম্যাচগুলো রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে আয়োজনের পক্ষে ছিল তারা। কিন্তু শুক্রবার আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা ও চেলসি উইঙ্গার ক্যালাম হাডসন-ওডোয়ের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ায় লিগ স্থগিতই করতে হলো।
আগেই লিগ বাতিল হলে কী হবে, এ নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা নেই প্রিমিয়ার লিগ বিধিমালায়। আরেকটি ব্যাপার, ইংল্যান্ডের শীর্ষ ঘরোয়া ফুটবলের লড়াই বাতিল হলে এর প্রভাব পড়বে পুরো ইউরোপে। মৌসুমের বাকি সময়ে খেলা না হলে কোন দল উন্নীত হবে, আর অবনমন হবে কাদের সেটাও স্পষ্ট নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ইউরোপা লিগের বাছাই-ই বা কী করে হবে সেই প্রশ্নও থেকে যায়। দ্য ডেইলি মেইল লিখেছে, বাকি ম্যাচগুলো না হলে মৌসুমের ফলাফল নিয়ে একটা গুরুতর সংকট তৈরি হবে।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে ক্রীড়াঙ্গন আগেই কোনও টুর্নামেন্ট বাতিলের ঘটনা দেখেছে ২০১৯ সালের রাগবি বিশ্বকাপে। জাপানে টাইফুন হাগিবিসের কারণে নিউজিল্যান্ড-ইতালি ও ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচ বাতিল হয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের ফলাফল গোলশূন্য বলে রেকর্ড করা হয়, পয়েন্ট ভাগ করে দেওয়া হয় দুই দলকে। কিন্তু এফএ যে একই পথে হাঁটবে সেই নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারছে না।








