তার ঝাঁকড়া চুলের দোলনি আর পায়ের কারুকার্য যেন একসঙ্গে ঢেউ তোলে সবুজ গালিচায়। ফুটবলপ্রেমীদের মোহিত করে বিস্ময়কর কত যে মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন, হিসাব দেওয়া কঠিন। সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ প্রতিপক্ষের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারেন, তার খেলা দেখা প্রত্যেকটি ফুটবলভক্ত বলে দিতে পারবেন অবলীলায়। কিন্তু এক ঝটকায় তার জীবনে এত বড় ঘটনা ঘটে যাবে, সেটির ধারণা হয়তো কারও ছিল না। রোনালদিনহোর নিজের কি ছিল?
না। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল গ্রেট কখনও ভাবেনইনি এমন মুহূর্তের সম্মুখীন হতে হবে তাকে। প্যারাগুয়ের এক কারাগারে ৩২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া রোনালদিনহো প্রথমবার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে। প্যারাগুইয়েন টেলিভিশন নেকওয়ার্ক এবিসি কালারে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ জয়ী তারকা জানিয়েছেন, সব ঝামেলা চুকে যাওয়ার পর সবার প্রথমে তিনি দেখা করবেন তার মায়ের সঙ্গে।
ঘটনার সূত্রপাত মার্চের শুরুর দিকে। প্যারাগুয়েতে এক অনলাইন ক্যাসিনো উদ্বোধন করতে ভাই রবের্তো আসিসের সঙ্গে গিয়েছিলেন রোনালদিনহো। কিন্তু সারাক্ষণ আনন্দ-ফূর্তিতে মজে থাকা রোনালদিনহো জানতেন না জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো অপেক্ষা করছে দেশটিতে। প্যারাগুয়েতে প্রবেশ করে জানতে পারেন ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে তারা এসেছেন দেশটিতে। নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও আদালত তাদের জামিন না দিয়ে পাঠান কারাগারে। ৩২ দিন জেল খাটার পর বিচারক গুস্তাভো আমারিয়া রোনালদিনহো ও তার ভাইকে জামিন দেন। এখন তারা প্যারাগুয়ের এক হোটেল ‘ঘরবন্দি’ দিন কাটাচ্ছেন।
পালমারোগা নামক হোটেলে বসেই এবিসি কালারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রোনালদিনহো। ২০০২ সালে ব্রাজিলের সঙ্গে বিশ্বকাপ জেতা এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন দ্রুত বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, ‘আমরা ভীষণ অবাক হয়েছিলাম, যখন শুনলাম কাগজপত্র বৈধ নয়। তখন থেকে আমরা বিচার কার্যক্রমের নিয়ম মেনে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সহযোগিতা করছি। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমরা সবকিছুর ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং আমাদের কাছ থেকে যা চাওয়া হয়েছে, আমরা সেগুলো সহজ করার চেষ্টা করছি।’
জেলে যাওয়ার মুহূর্তের বর্ণনায় রোনালদিনহো বললেন, ‘এটা ছিল বিশাল ধাক্কা, আমি কখনও ভাবিনি এ্ই ধরনের পরিস্থিতির সধ্যে আমাকে কখনও যেতে হবে। আমি আমার গোটা জীবন ধরে চেষ্টা করেছি পেশাদারি জায়গার সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর এবং আমার ফুটবল দিয়ে সবাইকে আনন্দ দেওয়ার।’
এবিসি কালার জানিয়েছে, করোনাভাইরাস লকডাউনের মধ্যেও তারা হোটেলে বসে মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রোনালদিনহোর। অবশ্য এজন্য তারা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এমনকি মাইক্রোফোন নিরাপত্তামূলক কভার দিয়ে ঢাকা ছিল এবং রোনালদিনহো মাস্ক পরে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
যার একটি প্রশ্ন ছিল- সব ঝামেলা চুকে যাওয়ার পর সাবেক বার্সেলোনা তারকা প্রথম কোন কাজটি করবেন? উত্তর দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তিনি, ‘প্রথম যে কাজটি করব, সেটি হলো আমার মাকে চুমু খাবো। কোভিড-১৯ রোগের মধ্যে বাড়িতে কঠিন সময় পার করছেন তিনি।’








