অপেক্ষা শেষ হয়েছে লিভারপুলের। ৩০ বছর পর ইংলিশ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতেছে অলরেডস। প্রিমিয়ার লিগ যুগের প্রথম শিরোপা জেতার উল্লাসে যখন মাতোয়ারা মার্সিসাইডের ক্লাব, ইংল্যান্ডের অন্যপ্রান্তে তখন গ্রাস করেছে হতাশা। তা হওয়ারই কথা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সাফল্য কী আর ভালো লাগে! বলা হচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কথা। ইংলিশ ফুটবলের অল্পবিস্তর খোঁজ-খবরও যারা রাখেন, তাদের অজানা থাকার কথা নয় লিভারপুলের সঙ্গে তাদের দ্বৈরথের কথা।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন অবসরে যাওয়ার পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে সাফল্য নেই ম্যানইউয়ের। কয়েক দফা কোচ বদল করেও লাভ হয়নি। শিরোপা তো দূরে থাক, চ্যাম্পিয়নস লিগও খেলতে পারছে না নিয়মিত! অথচ একসময় তাদের সাফল্যে অন্য দলগুলো কোণঠাসা হয়ে থাকতো। আর চিরশত্রু লিভারপুল ভক্তদের হৃদয়ে হতো রক্তক্ষরণ। জবাব দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়নি তাদের। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যে লিগে ছিল না কোনও সাফল্য।
অবশেষে সেই মুহূর্ত ধরা দিয়েছে। ইয়ুর্গেন ক্লপের হাত ধরে এসেছে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম শিরোপা। অলরেডদের সাফল্য যে ম্যানইউ সমর্থকদের জন্য বেদনার হবে, সেটাই স্বাভাবিক। নিজে ম্যানইউয়ের জার্সিতে খেলেছেন বলে বর্তমান কোচ ওলে গানার সুলশার ব্যাপারটি অনুভব করছেন খুব ভালো করে। ম্যানইউয়ের অন্য সমর্থকদের মতো লিভারপুলের সাফল্যে মন ভালো নেই তারও।
ক্লপের দলের সাফল্যে প্রশংসা ঝরলেও সুলশারের মনে্ আঘাত লেগেছে ঠিকই, ‘যে দলই প্রিমিয়ার লিগ জিতবে, তারা সত্যিকার অর্থেই এটার দাবিদার। তাদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এই লিগ জেতা খুব কঠিন। ইয়ুর্গেন (ক্লপ) ও তার খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা। তবে অন্য কোনও দলকে শিরোপা জিততে দেখাটা সবসময়ই কষ্টের।’
লিভারপুল জেতায় ম্যানইউ কোচের কষ্টটা একটু বেশিই, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে জড়িত সব খেলোয়াড়, স্টাফ ও ভক্তদের জন্য এটা খুবই কষ্টের অনুভূতি। অবশ্যই আমরা আমাদের সোনালি দিন ফিরিয়ে জয়ের ধারায় ফিরব এবং এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’








