ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ১৫০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। মাইলফলক ছোঁয়া ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি বল জালে জড়িয়ে। পরে জেরার্দ পিকে স্কোরশিটে নাম তুললে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জয়ের উৎসবও করেছেন। ইউক্রেনিয়ান ক্লাব ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে ২-১ গোলের যে জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর আরও কাছে চলে গেছে কাতালানরা।
ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে অবশ্য রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে বার্সেলোনার। করোনাভাইরাসের কারণে কিয়েভের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে সহজ জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে তাদের। দুই গোলকিপারের লড়াইয়ের ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় ধাপ ফেলেছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। এ নিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তৃতীয় জয় পেলো বার্সেলোনা। ৩ ম্যাচে তাদের পূর্ণ ৯ পয়েন্ট।
কিয়েভের বিপক্ষে শুরুতেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ইউক্রেনিয়ান ক্লাবের দুই খেলোয়াড় মেসিকে আটকাতে গিয়ে নিজেদের সীমানায় ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পাওয়া বার্সেলোনা পঞ্চম মিনিটেই লিড নেয় মেসির স্পট কিক জালে জড়ালে। দ্বিতীয় গোল পাওয়ারও ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু পেদ্রির শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে এবং আতোঁয়া গ্রিজমান ছয় গজ দূর থেকে বল বাইরের জালে মারলে হতাশা বাড়ে বার্সেলোনার ডাগ আউটে।
কিয়েভও প্রথমার্ধে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু চোট কাটিয়ে ফেরা গোলকিপার মার্ক-অ্যান্ড্রে টের স্টেগেনের দুর্দান্ত সব সেভে সমতায় ফিরতে পারেনি ইউক্রেনিয়ান ক্লাবটি। ভিতালি বুয়ালস্কির হেড একহাতে প্রতিহত করেছেন জার্মান স্টপার। আরেকবার পা দিয়ে বল ঠেকিয়ে হতাশায় পুড়িয়েছেন সফরকারীদের।
আসলে বুধবার রাতের ম্যাচটি ছিল দুই গোলকিপারের লড়াই। একদিকে টের স্টেগেন, অন্যদিকে কিয়েভ গোলকিপার নেশচেরেত। সফরকারীদের ১৮ বছর বয়সী গোলকিপার ১১টি সেভ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে মেসির ফ্রি কিক ও পেদ্রির বুলেটগতির শট। যদিও ৬৫ মিনিটে আর পারেননি নেশচেরেত। আনসু ফাতির ক্রস থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে জয়ের পথ সুগম করেন পিকে।
কিন্তু হাল ছাড়েনি কিয়েভ। অনেক সুযোগ নষ্ট করে অবশেষে ৭৫ মিনিটে পায় গোলের দেখা। ভিক্তর সিহানকোভের গোলে সফরকারীরা খেলার উত্তেজনা ফেরালেও বাকি সময়টায় আর কোনও বিপদ আসতে দেয়নি বার্সেলোনা। তাতে ২-১ গোলের জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।








