স্বপ্নেও ভাবেনি ফ্রান্স। তাদের কথা বাদ দিন, ফিনল্যান্ড নিজেরাও কি কল্পনা করতে পেরেছিল? ফ্রান্স বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, খেলা আবার তাদেরই ঘরের মাঠে, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ফিনল্যান্ড কোনোদিন জিততেই পারেনি লে ব্লুদের বিপক্ষে। কিন্তু ইতিহাস যে সবসময় সত্যি কথা বলে না, সেটির প্রমাণ মিললো আরেকবার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সই কিনা হেরে বসলো ‘পুঁচকে’ ফিনল্যান্ডের কাছে! সফরকারী দুই তরুণের দারুণ ২ গোলে ইতিহাস লিখেছে তারা।
বুধবার রাতে স্তাদে ডু ফ্রান্সের প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়েছে ফিনল্যান্ড। সফরকারীদের দুই অভিষিক্ত মার্কাস ফরস ও ওনি ভালাকারির গোলে শেষ হলো ফ্রান্সের অজেয় থাকার যাত্রা। ২০১৯ সালের জুনে তুরস্কের বিপক্ষে সবশেষ হেরেছিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে হারের তিক্ততা পেলো তারা।
ফ্রান্সের বিপক্ষে এটাই ফিনল্যান্ডের প্রথম জয়। যে জয়ের নায়ক ২১ বছর বয়সী দুই তরুণ। তিন মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে তারা ছুরি বসিয়েছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বুকে। অবশ্য সফরকারীদের এগিয়ে যাওয়ার আগে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্সই। কিন্তু অভিষিক্ত মার্কাস থুরামের হেড ক্রসবারে আঘাত করলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি স্বাগতিকদের। পরে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে মোটেও সুবিধা করতে পারেনি ফ্রান্স, তাতে নেশনস লিগে পর্তুগাল ও সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তার মেঘ জমাট বেঁধেছে লে ব্লুজ ক্যাম্পে।
প্রথমার্ধেই দুটো গোল পেয়েছে ফিনল্যান্ড। ঘড়ির কাঁটা আধা ঘণ্টা ছোঁয়ার ২ মিনিট আগে ফরাসি ডিফেন্সের ভুলে দারুণ এক গোল করেন ফরস। ক্ষীপ্রগতিতে ডি বক্সের ঢুকে গোলকিপার স্তিভ মঁদঁদাকে কোনও সুযোগই দেননি ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে কী, উল্টো ২ মিনিট পর আরেকটি গোল হজম করে ফ্রান্স। ৩১তম মিনিটে ভালাকারির গোলটি ছিল দেখার মতো। ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ে করা তার বুলেট গতির শট ঝাঁপিয়েও কিছু করতে পারেননি ফরাসি গোলকিপার।
গত মাসে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলা মাত্র তিনজনকে রেখে এবারের একাদশ সাজিয়েছিলেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। এই একাদশের শক্তির ওপর আস্থা ছিল তার। কিন্তু হয়নি। পরে দ্বিতীয়ার্ধের ১২তম মিনিটে তিনি মাঠে নামিয়েছিলেন আতোঁয়া গ্রিজমান, আন্থনি মার্সিয়াল ও এনগোলো কঁতেকে। কিন্তু তাতেও ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম হার ঠেকানো যায়নি।







