এক মৌসুম আগে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ চক্রের হয়ে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে অভিষেক হয় ইউসুকে কাতোর। শেখ জামাল ধানমন্ডি হয়ে এবার আবারও মুক্তিযোদ্ধাতে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই জাপানি মিডফিল্ডার। কিন্তু ঢাকায় এসেই দেখেন ক্লাবটি অর্থাভাবে ধুঁকছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আসন্ন মৌসুমে অংশগ্রহণ। তাই নিজ দায়িত্ববোধ থেকে ক্লাবের জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমে পড়েছেন কাতো।
নিজের ফেসবুকে পোস্ট করা আবেগঘন ভিডিও বার্তায় স্বদেশিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। যেন যে যার মতো করে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের সাহাযার্থে এগিয়ে আসে। আর এই সবকিছু করছেন তিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধার জন্য, যে ক্লাবটির নামের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতাও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
দেশের ফুটবলে মুক্তিযোদ্ধা এক অনন্য নাম। আবাহনী-মোহামেডানের বৃত্ত ভেঙে একসময় একের পর এক ট্রফি জিতেছে লাল জার্সিধারীরা। কিন্তু গত কয়েক মৌসুম ধরে ধুঁকছে দলটি। করছে মাঝারি মানের দল। এবার তো অর্থাভাবে দলের অংশগ্রহণই অনিশ্চিত। জাপান থেকে ঢাকায় এসে যখন দলের এমন দুরবস্থা দেখছেন তখন আর বসে থাকেননি ইউসুকে কাতো।
নিজের ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় মুক্তিযোদ্ধা দল বাঁচাতে স্বদেশি সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেছেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশে যেইসব জাপানি কোম্পানি আছে তাদের উদ্দেশ্যেই তার এই বার্তা।
তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯ মাস লড়াই করেছে। সেই যুদ্ধে ফুটবলাররা ফুটবল খেলে খাবারের টাকা দিয়েছে। এই দলটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই আমি এই দলটির জন্য কিছু করতে চাই। আমি স্পন্সর খুঁজছি। যেন দলটি টিকে থাকে।’
এরপর বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ইউসুকে কাতো নিজের দায়িত্ববোধের কথাও বললেন, ‘আমি প্রথম ঢাকায় এসে এই দলটির হয়ে খেলেছি। এবারও খেলতে এসে যখন শুনলাম দলটি অর্থাভাবে আছে তখন বসে থাকতে পারলাম না। আমার জানা মতে বাংলাদেশে অনেক জাপানি কাজ করে। তাদের কোম্পানি আছে। তারা যদি আমার এই ভিডিও বার্তা দেখে একটু হলেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসে তাহলে নিজের কাছে ভালো লাগবে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এই সময়ের মধ্যে ভালোই জানা হয়ে গেছে কাতোর, ‘এই দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেনেছি। যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করেছে তাদের নামে ফুটবল দল গঠন হয়েছে। সেই দলটি খেলবে না, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই দলের ম্যানেজারের ডাকে আমিও চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেন মুক্তিযোদ্ধা নামটি টিকে থাকে।’
ফেসবুকে আবেগঘন বার্তার পর স্বদেশিদের কাছ থেকে সাড়া পেতে শুরু করেছেন কাতো, ‘আসলে বিষয়টা বেশ কঠিন। এখানে যারা জাপানি আছে তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে যোগাযোগ করতে শুরু করেছে। তবে প্রক্রিয়াটি সহজ না। আমি আমার মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিছুটা হলেও যদি দলটির পাশে এসে দাঁড়ানো যায়, তাহলে নিজের কাছেই ভালো লাগবে। অন্তত এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যেই নামটি জড়িত সেই দলটি যেন টিকে থাকে।’








