কাজী তারিক রায়হানের পিতৃভূমি বাংলাদেশ। তবে তার জন্ম ফিনল্যান্ডে, বেড়ে ওঠা সেখানেই। বয়সভিত্তিক ফুটবলও খেলেছেন সেখানে। কিন্তু পিতৃভূমির টানে কাজী তারিক বছর খানেকের বেশি সময় আগে আসেন বাংলাদেশে। খেলছেন বসুন্ধরা কিংসে। স্বপ্ন ছিল লাল-সবুজ জার্সি গায়ে খেলবেন। কিন্তু আপাতত তার সেই স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হতে চলেছে! নেপালের তিন জাতির প্রতিযোগিতায় ঘোষিত বাংলাদেশ দলে যে নাম নেই তারিকের! শিগগিরই যে জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন, সেই নিশ্চয়তাও পাওয়া যাচ্ছে কই?
এমনটা হওয়ার কারণও আছে। বসুন্ধরা কিংসে সুযোগ পেয়েও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। তার পজিশন রাইট ব্যাকে খেলছেন বিশ্বনাথ ঘোষ। সেই পজিশনে বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজন তারিকের চেয়ে বিশ্বনাথের ওপরই আস্থা রাখছেন বেশি।
যে কারণে এবারের মৌসুমে ফেডারেশন কাপ ও চলমান লিগে তারিক সেভাবে খেলার সুযোগই পাননি। আগামীতে শিগগিরই যে ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাবেন, সেই সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। এমনিতে জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে এবার বেশ কঠোর হয়েই দল নির্বাচনে মনোযোগী ছিলেন। মাঠে যারা খেলেছেন শুধু তাদেরই ডেকেছেন। তাই কাজী তারিকের ‘লাল-সবুজ’ স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে একভাবে।
মাঝে গত বছর নেপালের বিপক্ষে সিরিজের আগে প্রাথমিক দলে ডাক পেলেও চোটের কারণে চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি। এবার তো ঘরোয়া ফুটবলে বলতে গেলে পুরোটা সময় তাকে বেঞ্চে বসেই থাকতে হচ্ছে।
এ নিয়ে তারিক কোনও মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বসুন্ধরার কোচ অস্কার ব্রুজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘কাজী তারিক ভালো খেলোয়াড়। ওই পজিশনে সুশান্তও আছে। এখন যারা ভালো করবে তারাই তো খেলার সুযোগ পাবে। এখন নিজের উন্নতি ঘটাতে হবে। তাহলেই জায়গা তৈরি হবে।’
ক্লাবটির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বিএ জোবায়ের নিপুও কোচের সঙ্গে একমত, ‘আমাদের প্রতিটি পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় আছে। যারা ভালো করছে তারাই খেলার সুযোগ পাচ্ছে। তারিকও চেষ্টা করছে। এখন তারিকের চেয়ে বিশ্বনাথ ভালো করছে। তাই তারিক একাদশে সুযোগ হচ্ছে না। সামনে তারিক ভালো করতে পারলে নিশ্চয়ই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।’
জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডেরও সেই একই কথা, ‘ঘরোয়া ফুটবলে যারা ভালো করবে, তাদেরই ডাকা হয়েছে। অন্য কোনও বিকল্প নেই।’
তাই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে পরতে হলে লড়াই করতে হবে কাজী তারিককে। প্রমাণ করতে হবে ঘরোয়া ফুটবলে। তখনই স্বপ্নপূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে ফিনল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলারের।








