একসময় সুনামের সঙ্গে মাঠ মাতিয়েছেন। ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে গোলও পেয়েছেন অনেক। কিন্তু গত দুই মৌসুম হলো জাহিদ হাসান এমিলি খেলার বাইরে। সবশেষ মোহামেডানের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। এরপর চোট ও অন্যান্য কারণে আর মাঠেই ফেরা হয়নি।
এবার দুই মৌসুম পর প্রিমিয়ার লিগের মাঝ পথে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছে। নতুন করে খেলার আগে এমিলির লক্ষ্য একটাই- পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করবেন। সঙ্গে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে আবারও খেলার স্বপ্ন তো আছেই।
২০০২ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ক্লাব ফুটবলে অভিষেক। এরপর আবাহনী-মোহামেডানসহ বড় দলে খেলেছেন। এছাড়া ২০০৫ সাল থেকে টানা খেলেছেন জাতীয় দলে। তবে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ভুটানের বিপক্ষে সেই যে শেষ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন চার বছর আগে, এরপর আর সুযোগ হয়নি।
এরপর থেকে আসলে এমিলির পারফরম্যান্স নিম্নগামী। তবে এখন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চান। এজন্য অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন তার সতীর্থদের দেখে। বাংলা ট্রিবিউনকে এমিলি সেই অনুপ্রেরণার কথা শুনিয়েছেন এভাবে, ‘আরও আগেই মাঠে ফেরা উচিত ছিল। কিন্তু নানান কারণে হয়ে ওঠা হয়নি। এবার সবকিছু মিলে যাওয়াতে মাঠে ফিরতে যাচ্ছি। আসলে আমার সতীর্থ অনেকেই খেলে যাচ্ছে। তারা যদি এই বয়সে এসে খেলতে পারে, তাহলে আমি পারবো না কেন?’
মাঠে ফেরার জন্য নিজে জিম ও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘরোয়া ফুটবলে নিজেকে ফেরানোর মিশনের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্নটা এখনও মনের কোণে উঁকি দেয় তার। যদিও বর্তমান কোচ জেমি ডের দলে জায়গা করে নেওয়াটা বেশ কঠিন।
বাংলাদেশের ফুটবলে সবশেষ তারকা স্ট্রাইকার এমিলি অবশ্য সব বুঝেশুনে বলেছেন, ‘অনেকদিন পর মাঠে নামতে যাচ্ছি। কতটুকু কী করতে পারবো, তা তো জানি না। এখন নিজের ফিটনেস সর্বোচ্চ লেভেলে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ৯০ মিনিট না হলেও কাছাকাছি যদি খেলার মতো সামর্থ্য থাকে। এরই সঙ্গে ক্লাব ফুটবলে গোল পাই, তাহলে হয়তো জাতীয় দলে আবারও খেলার স্বপ্নটা দেখতেই পারি।’
এরপরই জাতীয় দলের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ১৬ গোল পাশে থাকা এমিলি যোগ করেছেন, ‘আমি এখনও মনে করি ফিটনেস যদি ঠিক থাকে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার মতো যোগ্যতা এখনও আমার আছে। সেটা ৪৫ মিনিটের জন্য হলেও!’
প্রিমিয়ার ফুটবলের ফিরতি লিগ ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে কতটুকু কী করতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এমিলির সংকল্প লম্বা বিরতির পর যে করেই হোক মাঠে ফিরতেই হবে।








