২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে গর্জন করছে প্রায় ৭০ হাজার সমর্থক। অনুমিতভাবে অধিকাংশই স্বাগতিক ভারতের সমর্থক। এমন প্রতিকূল পরিবেশে খেলতে নেমেও বাংলাদেশ দমে যায়নি। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে চোয়ালবদ্ধ লড়াই উপহার দিয়েছে জামাল ভূঁইয়ারা।
এদের মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন ইয়াসিন খান। ম্যাচের ২ মিনিটের সময় প্রতিপক্ষের এক ফরোয়ার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে কপালই ফেটে যায় তার। আঘাত প্রাপ্ত স্থান থেকে রক্ত ঝরলেও ব্যান্ডেজ নিয়ে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়ে যান বরিশাল থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচটি এখনও স্মরণীয় হয়ে আছে ইয়াসিনের কাছে।
ম্যাচের শুরুতে কপাল ফেটে গেলেও মাঠ ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা করেননি দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার। মাথায় তখন একটা চিন্তাই কাজ করছিল, যে করেই হোক রক্ষণভাগ অটুট রাখতে হবে। আটকাতে হবে সুনীল ছেত্রীসহ অন্যদের। সেই পণ করেই এক মনে খেলে গেছেন। যার সুফল হিসেবে এক পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছে পুরো দল।
আজকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেই দিনের ঘটনা স্মরণ করেছেন ইয়াসিন। উদ্দেশ্য দলে না থেকেও জামালদের তাতিয়ে দেওয়া। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আসলে তখন শরীরের দিকে তাকাইনি। কপাল ফেটে রক্ত ঝরছিল, তার পরেও ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে গেছি। চিন্তা ছিল কোনও গোল হতে দেওয়া যাবে না। দেশের জন্য খেলতে হবে। সেই চিন্তা থেকে লড়াই চালিয়ে গেছি।’
কলকাতার ম্যাচের আগে ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী সহ ফরোয়ার্ড জোন নিয়ে বেশ পড়াশোনা করতে হয়েছে। বিশেষ করে সুনীলের মুভমেন্ট নিয়ে। তাতে বেশ সুবিধাই হয়েছিল ওই ম্যাচে। ইয়াসিন বলেছেন, ‘ওই ম্যাচের আগে আলাদা ভাবে সুনীলের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেছি। ও কীভাবে পোস্টে ঢুকে শট নেয়, কীভাবে ডজ দিয়ে থাকে। এতে করে সুবিধাই হয়েছে। সেই ম্যাচে আমরা ভারতের অধিনায়ককে কোনও সুযোগই দেইনি। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে গোল হজম করে বসি।’
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আজকেও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হবে। এই ম্যাচে ইয়াসিন খুব করে চেয়েছিলেন রক্ষণ সামলানোর দায়িত্বটা আবারও নিজের কাঁধে নিতে। কিন্তু জেমি ডে তাকে দলে রাখেননি। এ নিয়ে অবশ্য কোনও পরিতাপ নেই ইয়াসিনের, ‘আমি কেন দলে নেই। এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। দলে না থেকে কোনও আক্ষেপ নেই। আমি ফুটবল খেলে থাকি মনের আনন্দে, অর্থের জন্য নয়। যতোদিন উপভোগ করবো, ততো দিন খেলা চালিয়ে যাবো।’
দলে না থাকলেও কাতারের দোহাতে জামাল-তপুদের জন্য শুভকামনা জানাতে ভোলেননি ইয়াসিন। জাতীয় দলের হয়ে ৩১টি ম্যাচে দুই গোল করা এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘আমি তো খুব করে চাইবো এবারও ভারতের বিপক্ষে ভালো করে দল পয়েন্ট নিয়ে আসুক, ম্যাচ জিতুক। এটাই আমার দলের জন্য চাওয়া। আশা করছি, যারা খেলবেন তারা মাঠে পারফরম্যান্স করে দেখাতে পারবেন। ওদের প্রতি এই বিশ্বাস আছে।’









