আবারও তীরে এসে তরী ডুবলো! চার জাতি ফুটবল প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ গোলে হেরে ফাইনালে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। সাফের মতো কলম্বো থেকেও রিক্তহস্তে দেশে ফিরতে হচ্ছে জামাল ভূঁইয়াদের। শেষ ম্যাচে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার বিষয়টি সামনে এনেছেন বাংলাদেশ কোচ মারিও লেমস। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে কিছু একটা ঘটার আঁচ পেয়েছিলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার এই প্রতিযোগিতায় অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে লেমসকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী কোচ সফল হতে পারেননি। শেষ দিকের পেনাল্টি গোলে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কাকে ধন্যবাদ। তারা এই ম্যাচ জয়ের যোগ্য। তারা কঠোর পরিশ্রম করে খেলেছে। অনেকটা সময় ১০ জনের শ্রীলঙ্কা দলকে পেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু আমি মনে করি আমরা চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি। তারা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল। অবশ্যই পেনাল্টি এবং লালকার্ড ম্যাচ বদলে দিয়েছিল। আমরাও কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি।’
১-১ গোলে স্কোরলাইন থাকার সময় বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও ব্যাবধান বাড়াতে পারেনি। বরং শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছে।
তাই আবারও মনোযোগের ঘাটতির কথা বললেন লেমস, ‘এটা মনোযোগের কমতি। সত্যি বলতে শেষ মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছিল কিছু একটা হতে যাচ্ছে। আমরা স্রেফ থেমে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আমরা জিততে যাচ্ছি। সেই মুহূর্তে ওটা হলো। শ্রীলঙ্কা গোলের জন্য মরিয়া ছিল এবং ওই সময় আমাদের ভাবভঙ্গি যেমন হওয়ার কথা ছিল, তেমন ছিল না। আমরা স্রেফ দেখছিলাম এবং ম্যাচ শেষের অপেক্ষা করছিলাম। যখন আপনি শেষ মুহূর্তে এমন কিছু করবেন, তখন হারবেন।’
তিন ম্যাচে শুধু মালদ্বীপকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ড্র করেছে সেশেলসের সঙ্গে। আর স্বাগতিকদের কাছে হেরেই বিদায় নিতে হলো। এই ম্যাচের পারফরম্যান্স যে সবচেয়ে বাজে হয়েছে, তা স্বীকার করে নিলেন পর্তুগিজ কোচ, ‘তিন ম্যাচের মধ্যে আজকেই (মঙ্গলবার) আমাদের পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে বাজে। আমাদের সবার এগিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আমাদের মধ্যে ছিল জড়তা। এ কারণে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি।’
শ্রীলঙ্কায় ফাইনাল খেলার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। হতাশা সঙ্গী করে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন জামাল ভূঁইয়ারা।









