চার বছর আগে বাংলাদেশ ফুটবল দলের ট্রেনার হয়ে ঢাকায় আসা মারিও লেমসের। মাঝে কিছু দিন মালয়েশিয়ার একটি দলের দায়িত্বে ছিলেন। ঢাকার মায়া বেশি দিন দূরেও থাকতে দেয়নি অবশ্য। আবাহনী লিমিটেডের কোচ হয়ে নামেন নতুন অভিযানে। তবে ৩৫ বছর বয়সী কোচের ট্রফিবিহীন সময় কেটেছে তিনটি বছর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শনিবার রাতে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথম ট্রফিটি ছুঁতে পেরেছেন। তার এই সাফল্যে আকাশি-নীল দলও স্বাধীনতা কাপের দ্বিতীয় ট্রফি জিতেছে ৩১ বছর পর।
ট্রফি জয়ের পর লেমসের তাৎক্ষণিক উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্যালারির গ্রিলে উঠে দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছিলেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করেছেন পর্তুগিজ কোচ। পাশাপাশি উঠে এসেছে আরও নানাদিক-
বাংলা ট্রিবিউন: অনেক দিন পর সাফল্য এলো। নিশ্চয়ই রাতে ভালো ঘুম হয়েছে...
মারিও লেমস: সেভাবে বলতে গেলে মোটেও ভালো ঘুম হয়নি। রাতে বারবারই আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল। এই ঘুমাচ্ছি আবার জেগে উঠছি। আমার মগজে আসলে তখনও আনন্দ-উত্তেজনা কাজ করছিল। তবে এখন আমি নির্ভার। খুব সুখী মানুষ। মাঠের পর বাসায় গিয়ে ভাই ও স্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে ট্রফি জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার স্বল্প ক্যারিয়ারে প্রথম ট্রফি জয়। এটি নিশ্চয়ই অনেক দিন মনে থাকবে।
মারিও লেমস: তা তো থাকবেই। এই ট্রফির জন্য আমি তিন বছর অপেক্ষা করেছি। আসি আসি করেও হচ্ছিল না। কাছাকাছি গিয়েও স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছিল। মাঝে এএফসি কাপের জোনালে সেমিফাইনালে খেলেছি। তবে প্রথমবারের মতো কোনও টুর্নামেন্টের ট্রফি জেতার আনন্দ-অনুভূতি অন্যরকম।
বাংলা ট্রিবিউন: এখন কি দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো?
মারিও লেমস: অবশ্যই। টিম ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর আস্থা রেখেছে। দেরিতে হলেও সাফল্য এসেছে। এখন সামনে আমাদের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কম নয়। ফেডারেশন কাপ, প্রিমিয়ার লিগ ও মাঝে এএফসি কাপ রয়েছে। আমি চাই সবকটিতে সাফল্য পেতে। এর জন্য উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: স্বাধীনতা কাপের ফাইনাল শেষে আপনাকে সরাসরি গ্যালারির কাছাকাছি গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখা গেছে…
মারিও লেমস: আসলে অনেক দিন পর ট্রফি এসেছে। তাই নিজেই চলে যাই গ্যালারির কাছে। সেখানে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে মুহূর্তটা উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। আসলে দর্শক-সমর্থকরা তো ফুটবলের প্রাণ। তাদের সমর্থনে তো আমরা এগিয়ে চলেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: আবাহনী তো এবার আগের চেয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে। যার ফল তো স্বাধীনতা কাপে সাফল্য।
মারিও লেমস: স্থানীয় ও বিদেশি সংগ্রহে আগের চেয়ে অনেক ভালো দল আবাহনী। ভারসাম্যপূর্ণ বলতে পারেন। সুশান্ত, ইমন, রাকিব কিংবা দানিয়েল, অগাস্তো- যার কথাই বলেন না কেন সবাই নিজের জায়গায় ভালো করে আসছে। আমাদের এই দলটি যেকোনও দলকে হারাতে পারে, তা তো আমরা প্রমাণ করেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এত অল্প সময়ে পুরো দলকে একবিন্দুতে নিয়ে এলেন কীভাবে?
মারিও লেমস: সবার একাগ্রতা ছিল দেখার মতো। সবাই চাইছিল কিছু একটা করে দেখাতে। এ কারণে দেখবেন আমার দলের স্থানীয়রা যেমন গোল পেয়েছে, তেমনি বিদেশিরাও দুর্দান্ত খেলেছে। অনুশীলনের পাশাপাশি মাঠের খেলাতেও সবাই নিংড়ে দিয়েছে। তাই পুরো দল হয়ে উঠতে সময় লাগেনি।
বাংলা ট্রিবিউন: বসুন্ধরা কিংসের ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফেরনান্দেসসহ আরও দু’জন ডিফেন্ডার চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন। তাতে কি ট্রফি জেতাটা আরও সহজ হয়ে গেছে?
মারিও লেমস: এটা ফুটবলেরই অংশ। আমার মনে হয় না এতে ম্যাচ জেতা সহজ হয়েছে। তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ তো শক্তিশালী। সবাই জাতীয় দলে খেলে থাকে। তাদের সঙ্গে ফাইনালেও লড়াই হয়েছে। আমি তো এর আগেও এমন চোটগ্রস্ত দল নিয়ে খেলেছি। তবে চোট নিয়ে খেলাটা কঠিন। এবার আমি ভাগ্যবান যে সবাইকে ফিট পেয়েছি।
বাংলা ট্রিবিউন: দানিয়েল কলিনদ্রেসের দলভুক্তি বাড়তি অনুপ্রেরণা মনে করছেন?
মারিও লেমস: অবশ্যই। ও বিশ্বকাপে খেলেছে, ভালো খেলোয়াড়। ওর ম্যাচে থাকা মানেই প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি হুমকি। তবে দানিয়েল ছাড়াও রাফায়েল অগাস্তো, দোরিয়েন্তন কিংবা মিলাদ শেখ সোলায়মানিও ভালো খেলোয়াড়। এবার আমাদের চার বিদেশি ফুটবলারই দেখার মতো হয়েছে। আশা করছি সবার সমন্বয়ে দল অনেক দূর এগিয়ে যাবে।









