আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামুনুল ইসলামসহ জাতীয় দলের নয়জন খেলোয়াড়কে ক্লাবে ফিরিয়ে না দিলে আসন্ন এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরেও তারা খেলবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে দলটি। তাছাড়া যেসব খেলোয়াড় তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর 'বাফুফের ষড়যন্ত্রে' অন্য ক্লাবে আশ্রয় নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিতে পারে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব।
আজ বুধবার দুপুরে শেখ জামাল ক্লাব চত্ত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলেছেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদের। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে সেমি ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরকে আর ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ যেতে দেওয়া হয়নি। বাফুফের সহযোগিতায় বিভিন্ন ক্লাব পরবর্তীতে আমাদের খেলোয়াড়দের তাদের নিজের অঙ্গনে নিয়ে গিয়েছে। অথচ এর আগের দিন বাফুফের সভাপতির সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, শেখ জামালের খেলোয়াড়রা শেখ জামালেই ফিরে আসবে। ফুটবল ফেডারেশনের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণে আমরা যারপরনাই বিস্মিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিছু ক্লাবের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা চায় না শেখ জামাল ধানমণ্ডি হ্যাটট্রিক শিরোপা অর্জন করুক এবং এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে ভালো খেলুক। যেসব খেলোয়াড় অন্যান্য ক্লাবে চলে গেছেন এরা প্রত্যেকেই ২০১৫-১৬ মৌসুমের জন্য শেখ জামালের কাছ থেকে তাদের পাওনার এক তৃতীয়াংশ অগ্রিম হিসেবে নিয়েছেন।’
এ সময় ক্লাবের পক্ষ থেকে মামুনুল ইসলামের নেওয়া টাকা গ্রহণ করার রশিদ সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনানো হয় এবং দেখানো হয়। এতে দেখা যায় যে, মামুনুল ইসলাম ২০১৪-১৫ মৌসুমে ক্লাবের কাছে পাওনা ১১ লাখ টাকাসহ ২০১৫-১৬ মৌসুমের জন্য অগ্রিম হিসেবে তার প্রাপ্য ৫০ লাখ টাকার ৩৩ শতাংশ ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছেন। মনজুর কাদের বলেন, ‘এসব খেলোয়াড়রা শেখ জামালেরই ছিল এবং তারা যে অগ্রিম টাকা অন্যান্য ক্লাব থেকে গ্রহণ করেছিল সেটি বাফুফেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়রা তাদের এই কর্মকাণ্ড যে বৈধ হয়নি তা স্বীকার করে ক্লাবকে চিঠি দিয়ে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছে। একজন খেলোয়াড় যখন এক ক্লাবে এক মৌসুম খেলেন তখন দল বদলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগে সেই ক্লাবেই থাকেন। এটিই রীতি আর এটিই হয়ে আসছে। কিন্তু বাফুফের সহযোগিতায় কিছু ক্লাব সেই ধারা ভঙ্গ করলো। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব খেলোয়াড়দের ফেরত চাই। বাফুফের সভাপতি যেসব আশ্বাস দিয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন চাই। নাহলে এএফসি কাপে আমাদের না খেলার দায়-দায়িত্ব বাফুফেকেই বহন করতে হবে।’
শেখ জামাল তাদের তিন বিদেশি খেলোয়াড় ওয়েডসন এনসেলমে, এমেকা ডারলিংটন এবং ল্যান্ডিং ডারবোসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই বিদেশি খেলোয়াড় জার্মানিতে অবস্থানরত রিয়াসাত ইসলাম এবং সুইডেনের জোসেফ নুর রহমানকে উড়িয়ে এনেছে। মনজুর কাদের বলেন, ‘আমাদের ডিফেন্স লাইন পুরোটাই অন্যান্য ক্লাবে চলে গেছে। বাফুফের দায়িত্ব আমাদের খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে দেওয়া। নইলে আমাদের পক্ষে খেলা সম্ভব নয়।’
এছাড়া মনজুর কাদের আরও বলেন, ‘বাফুফের বর্তমান কমিটি গত ৮টি বছরে ফুটবলের উন্নয়নে কোনও ভূমিকা রাখতে পারেনি। এএফসি ফিফা প্রদত্ত উন্নয়ন খাতের টাকা উন্নয়ন খাতে খরচ না করে হরিলুট করেছে। দেশের ফুটবলে জাগরণের জন্য শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী কাপসহ বিভিন্ন জাতীয় টুর্নামেন্ট চালু করতে পারেনি। আমি নিজে জেলা ফুটবল উন্নয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু সকল চেষ্টাই বৃথা গেছে। আমি আশা করবো ফুটবলের চিত্রপট পাল্টাবে অচিরেই।’
উল্লেখ্য, ক্লাবের দাবি অনুসারে আগের চুক্তিবদ্ধ ১১ জন ফুটবলার হলেন- মামুনুল ইসলাম, রায়হান হাসান, শহিদুল আলম সোহেল, সোহেল রানা, শেখ আলমগীর কবির রানা, ইয়াসিন খান, ইয়ামিন মুন্না, জামাল ভূঁইয়া ও নাসির উদ্দিন চৌধুরী।
/আরএম/এফআইআর/








