বাংলাদেশের ম্যাচই ফুটবলার বানিয়েছে মঙ্গোলিয়ার অধিনায়ককে!

তানজীম আহমেদ, সিলেট থেকে
২৮ মার্চ ২০২২, ১৬:০৩আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ১৭:৩৯

মঙ্গোলিয়ায় কুস্তি তুমুল জনপ্রিয়। তাদের মূল খেলা বলতে শারীরিক শক্তি নির্ভর এই খেলাটিকেই বোঝায়। তার সঙ্গে অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল। এমন পরিস্থিতিতে যে কারোর ফুটবলের প্রতি টান সৃষ্টি করতে আলাদা আবেগের প্রয়োজন। যেমনটি হয়েছে সিলেটে আসা মঙ্গোলিয়ার ফুটবল দলটির অধিনায়ক টিসেন্ড আয়ুসের বেলায়। ঠিক ২১ বছর আগে সমবয়সী অনেকেই যখন কুস্তিতে মজেছেন। তখন বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ- মঙ্গোলিয়ার ম্যাচটি হৃদয়ে বেশ দাগ কেটে দেয় বলেই ফুটবলার হয়ে ওঠা তার!

২০০১ সালে সৌদি আরবের দাম্মামে দুই লেগের দ্বিতীয় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেটাই ছিল বৈশ্বিক ফুটবলে মঙ্গোলিয়ার প্রথম পয়েন্ট। সেই খেলা টেলিভিশনে দেখে ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন আয়ুস। সেই ১১ বছর বয়সেই তার পেশাদার  ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ডানা মেলে। এখন তো প্রায় ৩৪ লাখ জনসংখ্যার দেশটির অধিনায়কও। ২১ বছর পর সেই একই প্রতিপক্ষের পরীক্ষার মুখোমুখি এই মিডফিল্ডার।

এমন ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় আয়ুস তো ভীষণ উচ্ছ্বসিত। সোমবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘সেই রাতটি আসলেই অন্যরকম রাত ছিল। মঙ্গোলিয়ার জন্য ঐতিহাসিক বলতে পারেন। সেই ম্যাচটি আমাকে পেশাদার ফুটবলার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। যদিও সেই সময় ফুটবল জনপ্রিয় খেলা ছিল না।’

সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে মঙ্গোলিয়ার অধিনায়ক বলেছেন, ‘২১ বছর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের ভালো একটা স্মৃতি আছে। তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের ২-২ গোলের একটা ড্র ছিল। মঙ্গোলিয়ার ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সেটাই ছিল আমাদের প্রথম পয়েন্ট, অসাধারণ একটা ইতিহাস।’

স্মৃতির ঝাঁপি খুলতে গিয়ে আয়ুস যেন ছোটবেলায় ফিরে গেলেন, ‘২০০১ সালে আমার বয়স ছিল ১১। ২০০১ সালে সেদিন মঙ্গোলিয়ার ছুটির দিন ছিল। দাম্মামে ৯৪ মিনিটে বাংলাদেশের বিপক্ষে গোল করে ড্র করে মঙ্গোলিয়া। সেদিন আমি খুব চিৎকার-উল্লাস করেছিলাম। ফুটবলার হওয়ার জন্য অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী ম্যাচ ছিল সেটা। সেদিন থেকেই মঙ্গোলিয়া জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেছি।’

দুই দেশের তাপমাত্রা ভিন্ন হলেও সিলেটে গরমে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে অতিথিদের। অধিনায়কের কথা, ‘এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য, ম্যাচ জেতা। আর সেজন্যই এখানে এসেছি। মঙ্গোলিয়ার থেকে এখানকার তাপমাত্রা অনেক ভিন্ন। লাওসে আমরা সাতদিন অনুশীলন করেছি তাই প্রস্তুতিটা খুব একটা খারাপও না।’

১৯৯৯ সাল থেকে ফুটবল খেলছেন আয়ুস। ২০০৬ সালে জাতীয় দলে খেলা শুরু। মঙ্গোলিয়ার অধিনায়ক ভালো করেই জানেন বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ক্রিকেট। তার পরেও লাল-সবুজদের বিপক্ষে খেলতে পারাকে সৌভাগ্য মনে করেন তিনি, ‘আমি শুনেছি বাংলাদেশের এক নম্বর খেলা ক্রিকেট। আমার দেশে কুস্তি, বক্সিং, জুডো জনপ্রিয়। কিন্তু আমার হৃদয়ে ফুটবলই সেরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের।’

/এফআইআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের