কয়েক বছরে বাংলাদেশ প্রচুর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু বড় রকমের সাফল্য নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো গোল স্কোরার সংকট! প্রতিপক্ষের অর্ধে সুযোগ তৈরি করতে পারলেও সুযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছে না। ফলে ম্যাচ জেতা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ফিফা প্রীতি ম্যাচে মঙ্গোলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এর ঠিক আগে তাদের দলগত পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে অন্য চিত্র।
লড়াইয়ের আগে মঙ্গোলিয়া র্যাঙ্কিংয়ে তো এগিয়েই আছে। পাশাপাশি স্বাগতিকদের চেয়ে তাদের গোল স্কোরারও বেশি!
তুলনায় গেলে দেখা যায় বাংলাদেশ দলে একমাত্র নাবীব নেওয়াজ জীবনের ৫টি গোল আছে। যা বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ। মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদ তিন গোল করে তার পরেই আছেন। উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ঝুলিতে আছে দুটি গোল। এছাড়া আরেক স্ট্রাইকার সুমন রেজার পাশে আছে মাত্র একটি!
উইঙ্গার রাকিব হোসেন তো গোলের খাতাই খুলতে পারেননি। সবচেয়ে বড় বিষয় কেউ একজন গোল পেলেও এরপর ধারাবাহিকতা থাকছে না! অথচ ঘরোয়া ফুটবলে পারিশ্রমিক তাদের আকাশচুম্বী।
বিপরীতে মঙ্গোলিয়ার ফুটবলাররা পেশাদার লিগ খেললেও মাসিক পারিশ্রমিক গড়ে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। এর পরেও তাদের গোল স্কোরারের অভাব নেই বলতে গেলে! দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নারায়নবোল্ড নাইম অসর ২৫ ম্যাচে ৮ গোল করে সবার ওপরে রয়েছেন।
৩০ বছর বয়সী ফুটবলার জাতীয় দলে খেলছেন ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৫ সালে নর্দার্ন মারিয়া আইল্যান্ডের বিপক্ষে ৮-০ গোলে দলের বড় জয়ে অন্যতম অবদান ছিল তার।
এরপরই রয়েছেন মিডফিল্ডার গ্যাংকুয়াভ সেরোদিয়ানিভ। ২৭ বছর বয়সী ফুটবলার ৮ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। তিন গোল করে তালিকায় আছেন দুজন। ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ভ্যালিয়েনভ ব্যাটবলদিয়ান ১৯ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল। ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নারমানদাগ আর্তারের গোলসংখ্যাও সমান- ১৭ ম্যাচে করেছেন ৩টি।
তাদের ওপর স্বাগতিক ডিফেন্ডারদের তাই আলাদা দৃষ্টি রাখতেই হচ্ছে। দলটির জাপানি কোচ ওতসুকা ইচিরো অবশ্য এখনও পর্যন্ত সব খেলোয়াড়কে পরখ করে দেখতে পারেননি।
তবে দলের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি, ‘আমরা জিততে চাই। তানাহলে ড্র। তবে এর জন্য গোল করতে হবে। দলে যারা আছেন তাদের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা মালদ্বীপের বিপক্ষে ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা দেখেছেন। মঙ্গোলিয়া ম্যাচে কী গোল পাবে দল? প্রশ্নের উত্তরে ৩৭ বছর বয়সী কোচ বলেছেন, ‘যারা আছেন তাদের নিয়ে মাঠে খেলতে হবে। ঘরোয়া ফুটবলে তারাই সেরা। আশা করছি, এই ম্যাচে ফরোয়ার্ডরা গোল পাবেন। আমাদের গোলখরা কাটবে, জিততেও পারবো।’
কাবরেরা চাপে আছেন- এটা পরিষ্কার। চাপ থেকে মুক্তির জন্য লাল-সবুজ দলকে গোল পেতে হবে। সেই কাজটি আজ করতে পারবেন তো জীবন-সুমন-ইব্রাহিমরা?








