বিকালে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় রওনা দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের ফুটবল কোচ আকবর আলীর। চেয়েছিলেন কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে। কাল শুক্রবার এই অনুষ্ঠান থেকেই সম্মাননা পুরস্কার নেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু নিয়তি যে অন্য কিছু লিখে রেখেছিল! বাসা থেকে রওনা দেওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৪৮ বছর বয়সী এই ফুটবল কোচ।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ইহলোকের মায়া ছেড়েছেন আকবর আলী। যার মৃত্যুশোকে এখন মুহ্যমান স্ত্রী রেহানা আক্তার, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। কাল বাদজুমা বাসার পাশেই আকবর আলীর দাফন হবে।
স্ত্রী রেহানা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঢাকায় রওনা হবো। বাসা থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই মারা গেলেন। সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে গেলো।’
এবার বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) দৃষ্টিতে তৃণমূলের সেরা কোচ হিসেবে আকবর আলীকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তার হাত ধরে জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ অনেকেই উঠে এসেছেন। বলতে গেলে একজন ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ মানুষ ছিলেন।
ফুটবলে হাতেখড়ি সেই কোচের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ জাতীয় দলের তারকা সাবিনা খাতুন। প্রিয় শিষ্যকে আগের দিনও স্বীকৃতি পাওয়ায় ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। সাবিনা আজ জানালেন, ‘আসলে এটা অকল্পনীয় ব্যাপার মনে হচ্ছে। স্যার এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার পর থেকেই খুব উৎফুল্ল ছিলেন। পুরস্কারটা হাতে নেওয়ার আগেই স্যার এভাবে চলে যাবেন, ভাবতেই পারিনি। আজ সন্ধ্যায় আমি এই হৃদয়বিদারক খবর জানতে পারি।’
হতভম্ব বিএসপিএ সাধারণ সম্পাদক সামন হোসেনও। বিকালে মৃত্যুর কিছু সময় আগেও সামনের সঙ্গে ফোনে কথা হয় আকবরের, ‘তার আসার নিশ্চয়তা পেতে আমি ফোন দিয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছিলেন সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছেন। স্ত্রীকে নিয়ে বিকালেই রওনা দেবেন। অথচ এখন তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েছি।’
আকবরের পুরস্কারটি কাল শিষ্য সাবিনার হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছে বিএসপিএ’র। এই অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়াও পুরস্কার দেওয়া হবে অনেক বিভাগে।









