সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন নেপালের কাঠমান্ডুতে ছিলেন না কাজী সালাউদ্দিন। যিনি বাফুফে তো বটেই সাফেরও সভাপতি। আগামীকাল (বুধবার) সাফজয়ী সাবিনা-সানজিদারা দেশে ফিরছেন। তাদের রিসিভ করতে বিমানবন্দরেও থাকছেন না এই সাবেক তারকা ফুটবলার। কারণ বাফুফে ভবনে মেয়েদের অভ্যর্থনা দিতে চান সালাউদ্দিন।
আগামীকাল (বুধবার) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে বাংলাদেশ নারী দল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যরা উপস্থিত থাকলেও থাকবেন না সালাউদ্দিন। আজ (মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মলনে সেটির কারণও তুলে ধরেছেন বাফুফে প্রধান, ‘কালকে (বুধবার) আমি বিমানবন্দরে যাবো না মেয়েদের অভ্যর্থনা জানাতে। আমি দলকে গ্রহণ করবো বাফুফে ভবনে। আমার খুব ইচ্ছা করছে বিমানবন্দরে গিয়ে ওদের রিসিভ করার। প্রথম ওরা কাপ নিয়ে আসছে। তবে আমি গেলে আপনাদের আগ্রহটা ভাগ হয়ে যাবে। আমি তা চাই না। আমি চাই, আপনাদের আগ্রহের সবটুকু থাকুক মেয়েদের নিয়ে। এটা শুধুই মেয়েদের দিন। আপনারা তাদের তারকা বানান, যাতে করে ওদের দিয়ে পরবর্তী দুই-চার বছরে আরও বড় আসরের শিরোপা জিততে পারি।’
এর আগে সাফের ফাইনালেও সালাউদ্দিন ছিলেন না কাঠমান্ডুতে। কেন ছিলেন না, এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘একেকজন একেক স্টাইল, একেক মানসিকতা নিয়ে কাজ করে। আমি তিনবার নেপালের টিকিট করে তিনবার বাতিল করেছি। আমার কর্তব্য ছিল ফাইনালে নেপালে উপস্থিত থাকা। সাফের সভাপতি হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল পুরস্কার তুলে দেওয়া। তবে অনেক চিন্তা করে, নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেখলাম আমি গেলে মেয়েদের ওপর একটা বাড়তি চাপ পড়তে পারে।’
এরপরই এই কর্মকর্তা যোগ করেন, ‘কারণ তারা অসাধারণ ফুটবল খেলছিল। যত রকম সুন্দর খেলা যায়, সবই তারা খেলছে। আমি চিন্তা করলাম ওখানে গেলে মেয়েদের ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। তাই আমি যাইনি। আমি জানিয়ে দেই- আমি বাফুফেতে বসে খেলা দেখবো।’
সালাউদ্দিন ঢাকায় বসে খুব করে চাইছিলেন মেয়েরা শিরোপা জিতুক। সেটা তুলে ধরে বাফুফের বড় কর্তা বলেছেন, ‘সাফ সভাপতি হিসেবে কাপ দেওয়া আমার কর্তব্য ছিল। তবে এটা মনে রাখতে হবে আমি আমার দেশকে বেশি ভালোবাসি। কাপ দেওয়াটা ছিল গর্বের। তবে আমি চেয়েছি আমার দেশ কাপটা জিতুক। কারণ এদেশের ফুটবলের একটা বাঁক বদল খুব দরকার। আমি খুব ভালো করছি না, ওই ভালো করার জন্য চেষ্টা করছি। ওই ভালোর জন্য নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার দিকে তাকাইনি।’







