তিনি বিদ্রোহের প্রতীক। অনুপ্রেরণারও অপর নাম। ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে কখনও নিজ দল থেকে দূরে থাকেননি। প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপে তার সরব উপস্থিতি সবার চোখে চোখে থেকেছে। কিন্তু এবারই হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রম। মরুর বুকে প্রথম বিশ্বকাপে যে তার পা পড়ছে না। বলা হচ্ছে- আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর প্রয়াত ডিয়েগো ম্যারাডোনার কথা। দুই বছর আগে নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে অন্যলোকে পাড়ি জমিয়েছেন ৮৬’র বিশ্বকাপ জয়ী নায়ক। কাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ২২তম বিশ্বকাপে মাঠে নামতে যাচ্ছে অন্যতম ফেভারিট আর্জেন্টিনা। লুসাইল স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের মুখোমুখি হওয়ার সময় নিশ্চয়ই অন্যলোক থেকে ম্যারাডোনার আশীর্বাদ সঙ্গী হবে তাদের!
পুরোটা সময় নানা তর্ক-বিতর্কে ঘেরা ছিল ম্যারাডোনার জীবন। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে শুরু করে কোচ হওয়ার পরেও সেই বিতর্ক ছিল তার ছায়াসঙ্গী। তবু যেখানেই গেছেন পেয়েছেন উষ্ণ সংবর্ধনা, আতিথিয়েতা। লিওনেল মেসি-ডি মারিয়ারা যাকে দেখতেন চরম শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে। সেই ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের মাঠে থাকবেন না। তা যেন বর্তমান খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থকদের মেনে নেওয়া একটু কঠিনই।
ম্যারাডোনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই মূলত এমন উপলব্ধির জন্য দায়ী। নিজে ছিলেন সত্যিকারের সাহসিকতার প্রতীক। সেজন্যই কিনা তার শরীরে শোভা পেতো মহান বিপ্লবীদের উল্কি। ডান হাতের উল্কিতে দেখা যেত বিপ্লবী চে গুয়েভারাকে, বাঁ পায়ের উল্কিতে থাকতেন কাস্ত্রো। আর হাভানা চুরুট মুখে হাস্যোজ্জ্বল ছবিটা তো এখনও অমলিন।
সেই ম্যারাডোনা ৬০ বছর বয়সে এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ায় ভক্তকূলরা ভীষণ মর্মাহত। তার অনুপস্থিতি সবাই যে অনুভব করবেন; তা অকপটে বলেও দেওয়া যায়। এই যেমন বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ম্যারাডোনার না থাকাটা আমাদের জন্য কঠিন আঘাত। তার অভাব কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয়। এতো তাড়াতাড়ি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, তা চিন্তাও করিনি।’
ম্যারাডোনার সব সময়ের উপস্থিতি যে আলবিসেলেস্তেদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণার সেটাও উঠে এলো ২৪ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকার কথায়, ‘তার অনুপস্থিতি আমাদের জন্য কষ্টের হবে। তিনি থাকলে নানানভাবে উৎসাহ দিতেন, সমর্থন করতেন। নিজেরাও তার অনুপস্থিতি আবেগভরে স্মরণ করছি। কাতারে সেভাবেই আমরা মাঠে নামবো।’









