কেন তাকে ভিনগ্রহের ফুটবলার বলা হয় তা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন লিওনেল মেসি। যতই প্রতিপক্ষ তাকে আটকানোর চেষ্টা করুক, ফাঁক গলে ঠিকই বেরিয়ে যাচ্ছেন। বাঁ পায়ের জাদুতে মোহিত করছেন সবাইকে। কাতার বিশ্বকাপেও মেসি যেন প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সবশেষ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে যা খেললেন তা মায়াঞ্জন হয়ে আছে। বলতেই হচ্ছে, এক ম্যাচে কতকিছুই না করে দেখালেন মেসি!
লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ পুরো আর্জেন্টিনার ওপর চড়াও হতে চেয়েছিলেন। আগের মতো মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণটা নিজেদের হাতে রেখে যদি গোল পাওয়া যায়। কিন্তু আলবিসেলেস্তেদের কোচ স্কালোনি তাদের কৌশল সফল হতে দেননি। তিনিও কম যাননি। নতুন কৌশলে দলকে খেলিয়েছেন। মধ্যমাঠে চার জনকে খেলিয়ে অন্য একরকম এক ম্যাচ খেলে গেছেন।
ঐতিহ্যের বিল্ডআপ ফুটবলের জায়গায় কাউন্টার প্রেসিং কিংবা কাউন্টার আক্রমণে গিয়ে আর্জেন্টিনা সফল হয়েছে। আর সাফল্যের নেপথ্যে লিওনেল মেসির নাম তো আসবেই। একটি গোল নিজে করেছেন। অন্যটি করিয়েছেন। এছাড়া বারকয়েক তো ক্রোট দুর্গে হানা দিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
পেনাল্টি থেকে নেওয়া মেসির দুর্দান্ত শট তো দেখার মতো। লিভাকোভিচ তেকাঠির নিচে বেশ সাহসী, দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছিলেন। দুই দুটো টাইব্রেকার জিতে প্রত্যাশাটা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি যেভাবে বুলেট গতির শটে টপ অব দা কর্নার দিয়ে জাল কাঁপালেন, তাতে ক্রোট গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না।
আর আলভারেজকে দিয়ে তৃতীয় গোলটি যেভাবে করিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছিল ২০ বছর বয়সী তরুণ কোনও ফুটবলারের দারুণ ঝলক! এই বিশ্বকাপে ক্রোটদের ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার কাভার্ডিওল বেশ আলোচনায়। শুরু থেকে যেভাবে মেসির পিছনে অনেকটা লেগে ছিলেন, মনে হচ্ছিল সফল হতে পারেন। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী মেসি যেভাবে তাকে ঘোরালেন তা ছিল অবিশ্বাস্য। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জায়গা মতো কাটব্যাক বাড়িয়ে আলভারেজকে দিয়ে গোল করানোর অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখে ফুটবল বিশ্ব আবারও মোহিত হয়েছে।
আর শুরু থেকে মেসিকে যোগ্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন সতীর্থরা। সবকিছু উজাড় করে খেলার প্রবণতা প্রতিটি ম্যাচেই। এই যেমন আলভারেজ পেনাল্টিটা যেভাবে আদায় করে নিয়েছেন তা ছিল দেখার মতো। মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে যে গতিতে একে একে তিন ডিফেন্ডারকে টপকে বুটের ডগা দিয়ে লেভাকোভিচকে হারিয়েছেন তা এখনও চোখে লেগে আছে। এছাড়া মেসির কাটব্যাক থেকে ঠিকঠাক প্লেসিং করাটাও কম কথাও নয়।
এই ম্যাচে একের পর এক রেকর্ড ছুঁয়েছেন মেসি। অধিনায়ক হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। বাতিস্তুতাকে টপকে হয়েছে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। এছাড়া লোথার ম্যাথিয়াসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
এক ম্যাচেই এত কীর্তি। আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। অমরত্বের সন্ধানে ট্রফি ছুঁতে পারলে জীবনের সব প্রাপ্তিই যে পূর্ণ হবে। নিশ্চয়ই মেসি সেই সুলুক সন্ধানে আছেন। দেখাবেন আরও একটি মেসিময় দিন। সেই অপেক্ষায় লাখো-কোটি সমর্থক।









