টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে তাকে হাসপাতাল যেতে হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে পরের ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন শামসুন্নাহার। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দলকে ট্রফি জেতানোর পিছনেও দারুণ অবদান। তিন গোলের একটি এসেছে তার কাছ থেকে। এছাড়া ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে মাঠ ছাড়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সাবলীল ছিল তার খেলা। তাই তো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার (৫) পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছে কলসিন্দুরের এই ফুটবলারের হাতে। এরইসঙ্গে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচেছে।
আগে বয়সভিত্তিক দুটি টুর্নামেন্টে অধিনায়কত্ব করলেও ট্রফি জিততে পারেননি শামসুন্নাহার। ২০১৯ সালে ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ ও ২০২২ সালে ভারতের জামসেদপুরে অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টে ট্রফি জেতা হয়নি। কেন জিততে পারেননি? অনেকের কাছ থেকে বারবারই এমন প্রশ্ন শুনে খারাপই লাগতো তার। তাই অপেক্ষায় ছিলেন সুসময়ের। আজ বৃহস্পতিবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নিজের অধিনায়কত্বে প্রথম ট্রফি এসেছে। তাই উল্লাস ছিল বাঁধনহারা। মাঠেই সবাই মিলে আনন্দ-উৎসবে মেতেছে লাল-সবুজ দলের সেনানীরা।
মাঠেই ভিড়ের মধ্যে শামসুন্নাহারকে শিরোপা-উৎসব নিয়ে নানান কথা বলতে হলো। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘শিহরণ অনুভব করছি। এর আগে দুই আসরে অধিনায়কত্ব করে ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, এই প্রথম শিরোপা জিতলাম। আমাকে নিয়ে সবার একটা আক্ষেপ ছিল। বলতো, তুমি কেন শিরোপা আনতে পারো না? তোমার হাতে ট্রফি নাই। এবার আমি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি, আশা করেছি এবার ঘরের মাঠে খেলা, ট্রফিটা যেন ঘরেই থাকে। সবচেয়ে বড় পাওয়া অধিনায়ক হিসেবে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, আমার টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটা ভাগ্যের ব্যাপার। দলকে ধন্যবাদ।’
তবে ফাইনাল জেতার জন্য আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শামসুন্নাহার। দলকে সেভাবেই উজ্জীবিত করেছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা কোনও সময় হতোদ্যম হইনি। জেতার জন্য মাঠজুড়ে খেলেছি। সতীর্থরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছে। সুযোগ পেয়েই গোল করেছি। ম্যাচ জিতেছি।’









