সেশেলসের শৌখিন দলটির কোচ নিজেই কোচিংয়ের পাশাপাশি অন্য চাকুরি করেন। ৫৩ বছর বয়সী নেভিল বোথ দেশের বাইরে থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি সময় বের করে ফুটবল কোচিংয়ে যুক্ত আছেন। বেশ কিছু দিন আগে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে দলটিকে ঘষামাজা করে যাচ্ছেন। এবার বাংলাদেশে এসেছেন দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে। যতই তারা শৌখিন দল হোক না কেন, জয়টাই তাদের কাছে মুখ্য। তবে স্বাগতিকদের খেলার প্রশংসাও ঝরেছে তার কণ্ঠে। ২০২১ সালে চার জাতির টুর্নামেন্টে পিছিয়ে পড়েও বাংলাদেশকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল সেশেলস। ওই দল আর এই দলের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন নেভিল।
অধিনায়ক স্টেনিও মারিয়েকে পাশে বসিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নানান কথা বলে গেলেন নেভিল। সিলেটে আসার আগে অল্প কিছু দিন অনুশীলন করেছে তার দল। তা পুঁজি করেই আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘গত কিছুদিন আমরা একসঙ্গে অনুশীলন করেছি। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটা সহজ হবে না, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেমনটি হয়েছিল। সামনেই ইন্ডিয়ান ওশেন গেমস রয়েছে। এই দুই ম্যাচ তারই প্রস্তুতি। এখানে জিততে পারলে খেলোয়াড়রা নতুন করে উজ্জীবিত হবে।’
শৌখিন দলটিতে আবার দুজন পেশাদার খেলোয়াড়ও আছে! একজন ইংল্যান্ডের শীর্ষে লিগে খেলেছেন। অন্যজন নিচু সারির লিগে। এছাড়া দলে রয়েছে তরুণ খেলোয়াড়ও। ২০২১ সালের শ্রীলঙ্কার টুর্নামেন্টের স্কোয়াডে থাকা ৮ জন এবার নেই। এছাড়া ইংল্যান্ড প্রবাসী দুজন খেলোয়াড়ও আছে। নিজের দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ তেমন খেলা হয় না। বিদেশের মাঠে খেলতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে দলটি। টেকনিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করেছে তারা।
সিলেটে আসার আগে বাংলাদেশের সবশেষ ম্যাচের ভিডিও দেখেছেন কোচ। সেটা দেখে বেশ সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছেন নেভিল। বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়েছে তার, ‘বাংলাদেশের সবশেষ ম্যাচ দেখেছি। আমার মনে হয় ওরা ২০২১ সালের চেয়ে এবার উন্নতি করেছে। আমি জানি ম্যাচ দুটি সহজ হবে না। তবে আমরা ম্যাচ জিততে চাই। দুটো ম্যাচে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরখ করতে চাই।’
৯০ হাজার জনসংখ্যার দেশটিতে ৫০০ ফুটবলার আছে। ফুটবল এখনও শৌখিনতার পর্যায়ে আছে। সব খেলোয়াড় অন্য কাজ করে থাকে। কেউ পর্যটনে, কেউ শিক্ষকতায়, কেউ কৃষিতে, কেউ নাবিক কিংবা অবকাঠামো নির্মাণে যুক্ত। এরপর ফুটবল শুধু সময় কাটানোর জন্য খেলে থাকে। ফুটবল খেলে সেভাবে কোনও আয় নেই তাদের।
দলটির অধিনায়ক মারিয়ে নিজেই একজন নাবিক। এই মুহূর্তে খেলার প্রতি মনোযোগ তার, ‘আমরা একটি দল হয়ে এখানে এসেছি। দুটি ম্যাচই জিততে চাই। এটাই ফুটবল। আমাদের ওখানে ঘরোয়া ফুটবলে আটটি দল রয়েছে। ৪ থেকে ৫টি দল লিগ জেতার জন্য লড়াই করে থাকে। সপ্তাহে তিন দিন আমরা অনুশীলন করে থাকি।’









