ঘরের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখ পারেনি অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে। যদিও হারেনি তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলে ড্র করেছে জার্মানরা। অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় জিততে না পারলেও প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জেতায় প্রত্যাশিতভাবে সেমিফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। দুই লেগে ৪-১ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ চারে সিটিজেনরা।
তিন গোলে পিছিয়ে থাকা বায়ার্নের সামনে আক্রমণের বিকল্প ছিল না। অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় শুরু থেকে তারা ব্যস্ত ছিল গোলের খোঁজে। দুই মিনিটের মাথায় কোম্যানের ক্রস গোলমুখের সামনে থেকে হেডে বিপদমুক্ত করেন স্টোনস।
সিটি প্রথমবার আক্রমণ চালায় ১৫ মিনিটে। বক্সের মধ্যে ডি ব্রুইনার ব্যাকপাস, গোলমুখের ঠিক সামনে দাঁড়ানো গুন্ডোগানের পায়ে বল পৌঁছাতে দেননি বায়ার্ন গোলকিপার সমার। দুই মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ পায় বায়ার্ন। প্রতি আক্রমণে বল পায়ে নিয়ে স্টোনসের চ্যালেঞ্জ জিতে বক্সের মধ্যে ঢুকে যান লেরয় সানে। সাবেক সিটি উইঙ্গারের সামনে ছিলেন শুধু এডারসন। অতিথি গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন সানে, কিন্তু গোলবারের বাইরে দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
১৯ মিনিটে আক্রমণে যাওয়া আর্লিং হাল্যান্ডকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন উপামেকানো। কিন্তু লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ানোয় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয়েছে।
কিছুক্ষণ পরই আরেকবার গোলের সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। সানের দূরপাল্লার ফ্রি কিক নিচু হয়ে জালে ঢোকার অপেক্ষায় ছিল, সিটি গোলকিপার এডারসন ঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন বল।
উপামেকানোর কারণে গোল খেতে বসেছিল বায়ার্ন। ৩৫ মিনিটে গুন্ডোগানের শটে বক্সের মধ্যে বল তার হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি। হাল্যান্ড গোল করার দায়িত্ব নেন। কিন্তু পারেননি জাল কাঁপাতে। ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মেরে হতবাক করেন তিনি। ৩৭ মিনিটে ওই পেনাল্টি মিসে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক আসরে প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গোলদাতা রুড ফন নিস্টলরয়কে (১২, ২০০২-০৩) তখন ছোঁয়া হয়নি তার।
বিরতির তিন মিনিট আগে আরেকবার গোলের সুযোগ মেলে জার্মান ক্লাবের। বক্সের মধ্যে সিটি খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জের মুখে সানে ব্যাকপাস দেন। কোম্যানের শক্তিশালী শট সেভ করে প্রথমার্ধে স্কোর গোলশূন্য রাখেন এডারসন।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দাপট দেখায় সিটি। ৫৫ মিনিটে হাল্যান্ড তাড়াহুড়ো করে শট নিতে গিয়ে সমারের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। দুই মিনিট পর নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার পান গোলের দেখা। সিটির বক্সে কোম্যানের ক্রস স্টোনস বিপদমুক্ত করে মাঝমাঠে পাঠান। হাল্যান্ড বল ঠেকিয়ে ডি ব্রুইনার দিকে বাড়ান। বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ফিরতি পাস দেন তার দিকে। দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ে এগিয়ে যান হাল্যান্ড। তাকে থামাতে গিয়ে উপামেকানো পিছলে পড়ে যান। ম্যানসিটি স্ট্রাইকার এরপর বুলেট গতির শটে সমারকে পরাস্ত করেন। পেনাল্টি মিসের প্র্রায়শ্চিত্ত করে ছুঁয়ে ফেলেন নিস্টলরয়কে, যা ছিল এই মৌসুমে তার ৪৮তম গোল।
৭৫ মিনিটে টেল বায়ার্নের সান্ত্বনাসূচক গোল করেছিলেন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি কোম্যান অফসাইডে থাকায়। অবশ্য পাঁচ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল শোধ দেয় স্বাগতিকরা। সাদিও মানের শট বক্সের মধ্যে অ্যাকাঞ্জির হাতে লাগলে বায়ার্ন পেনাল্টির আবেদন করে। রেফারি পিচসাইড মনিটরে তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন এবং জশুয়া কিমিখ ভুল করেননি। গোলপোস্টের মাঝ দিয়ে জাল কাঁপান তিনি।
জার্মান দলগুলোর বিপক্ষে নকআউটে বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ ম্যানসিটি। ৯টি নকআউট খেলে সবগুলোতেই অপরাজিত ছিল তারা, এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না।
এই আসরের একমাত্র অপরাজিত দল ম্যানসিটি টানা তৃতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো। তাদের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী ৯ মে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হবে প্রথম লেগ। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগ ১৬ মে।








