যানজটের নগরী ঢাকায় রাস্তাঘাট ফাঁকা পাওয়া দুষ্কর। ব্যস্ত নগরীতে চলতে ফিরতে নাগরিকদের নাভিশ্বাস ওঠে। আর বিদেশি নাগরিক যারা থাকেন শুরুতে এমন পরিবেশ দেখে একটু অবাক হলেও ধীরে ধীরে আত্মস্থ করে নেন। ঠিক এমনই একজন মারিও লেমস। আবাহনী লিমিটেডের এই পর্তুগিজ কোচ ২০১৭ সাল থেকে ঢাকায় বসবাস করছেন। ব্যস্ত নগরীতে যাতায়াতে অভ্যস্ত হলেও ঈদ আসলেই যেন খুশির ফোয়ারা তার অবয়বে। আসলে ঈদে ফাঁকা ঢাকার প্রেমে পড়ে যাওয়া এক বিদেশি নাগরিক তিনি!
২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন লেমস। শুরুতে বাংলাদেশ দলের ফিটনেস কোচ হয়ে আসেন। এরপর দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল আবাহনী লিমিটেডের কোচ হয়ে ডাগ আউট সামলাচ্ছেন। সাত বছর ধরে বাংলাদেশে থাকার সুবাদে এই দেশের অনেক কিছুই চেনাজানা। অনেক কিছুর সঙ্গে, বিশেষ করে যানজটে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন আগেই।
তাই দুই ঈদে যখন ঢাকা শহর প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে, পরিবেশ বেশ শুনশান থাকে। তখন পুরো সময়টা বেশ উপভোগ করেন ৩৬ বছর বয়সী কোচ। বিয়ে করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়ে হি জিনকে। তাদের ঘরে তিন বছরের কন্যা সন্তান গাবিও আছে।
শুনশান ঢাকা পেলেই তারা ঘুরে বেড়ান। পুরো পরিবেশটা উপভোগ করার চেষ্টা করেন।
বারিধারার বাসা থেকে লেমস ঢাকায় থাকার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বললেন, ‘ঈদে ঢাকা শহর ফাঁকা হয়ে যায়। কোনও যানজট নেই, দূষণ কিংবা কোলাহলও নেই। এমন দৃশ্য সচারচর দেখা যায় না। অন্যরকম এক শহর মনে হয়। এমনটি দেখে আমার কাছে অবাক লাগে। কোনও উৎসবের সময় রাজধানী শহর এমন ফাঁকা হয়ে যায়, তা পর্তুগাল-মালয়েশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা অন্য কোনও দেশে সেভাবে চোখে পড়েনি।’
আর একটু বিস্তারিত বলতে গিয়ে পর্তুগিজ কোচ জানালেন, ‘ঈদের ছুটিতে অনেকেই নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি ছুটে যায়। লঞ্চ-বাস-ট্রেনে বেজায় ভিড় থাকে। টেলিভিশন কিংবা পত্রিকাতে এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যাই। অভুতপূর্ব। এছাড়া ঈদের দিনে অনেকেই পাঞ্জাবি পরে ঘুরতে বের হয়। নতুন জামা-কাপড় পরে। দেখতে ভালো লাগে। উৎসবমুখর এক পরিবেশ।’
প্রিমিয়ার লিগ ও ফেডারেশন কাপের খেলা থাকায় মাত্র তিন দিন ছুটি পেয়েছে আবাহনীর খেলোয়াড়রা। লেমস ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দেবেন। পাশাপাশি ঢাকা শহরে ঘোরার পরিকল্পনাও করেছেন। যেতে চাইছেন আহসান মঞ্জিলে, ‘ছুটির সময়ে আহসান মঞ্জিলে যাওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা শহরে বউ-বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার ইচ্ছা আছে। আসলে এমন ফাঁকা ঢাকা তো সবসময় থাকে না। এই যেমন ঈদের আগে শেষ ম্যাচ খেলে যখন এলিফ্যান্ট রোড ধরে ক্লাবে ফিরছিলাম, মানুষের ভিড় ও যানজট ছিল দেখার মতো। অনেক সময় লেগেছিল ক্লাবে ফিরতে। তাই ঈদের সময়টুক কোলাহল মুক্ত পরিবেশটা উপভোগ করতে চাইছি।’
অনেক দিন ধরে বাংলাদেশে থেকে এই দেশের জীবন-চিত্রটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে লেমসের। তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় উৎসবে নিজেকেও শামিল রাখতে চাইছেন!








