একসময়ের দেশসেরা গোলকিপার মোহাম্মদ মহসিনের এখন করুণ দশা। শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। গত কয়েক মাস ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন সব দিক দিয়েই দুরবস্থা। সবকিছু হারিয়ে চিকিৎসাও ঠিকমতো করতে পারছেন না। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ছোট ভাইয়ের একটি ফ্ল্যাটে কোনোমতে জীবন কাটাচ্ছেন ৬০ বছর বয়সী সাবেক ফুটবলার।
আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফউদ্দিন চুন্নুর হাত ধরে মহসিন আবাহনীতে অনুশীলন করে মোহামেডানে খেলা শুরু করেন। সাদা-কালো জার্সিতে প্রায় অর্ধ যুগ খেলে আবাহনীতে নাম লেখান। সেখানে সফলতার ছাপ রাখেন। এরপর খেলেন মুক্তিযোদ্ধায়। ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলেও দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত গোলপোস্টের নিচে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার ফুটবলার দারুণ পারফরম্যান্স করে একসময় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারও পেয়েছেন।
খেলা ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মহসিন। সেখানে ভালোই ছিলেন। তবে একসময় স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ঢাকায় ফিরে আসেন, অনেকটা নিঃস্ব হয়ে।
মহসিনের ভাই কোহিনূর ইসলাম পিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমার বড় ভাই কানাডাতে ব্যবসা-বাণিজ্য সেভাবে রাখতে পারেননি। ঢাকায় এসেও কিছু করতে পারেননি। এখন তো তার নিঃস্ব অবস্থা। মানসিক ভারসাম্য অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন। ভাত খাওয়ার পর বলে ওঠেন কই খেয়েছেন!’
এরপরই তিনি দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের কাছে আবেদন রেখে বলেছেন, ‘ভাইয়ের সাভারের জমিটা বেদখল হয়ে আছে। ওটা যদি পাওয়া যেতো তাহলে সেটা দিয়েই চিকিৎসা করার সুযোগ ছিল। অন্য কারও টাকা কিংবা অনুদানের প্রয়োজন হতো না। আমার এখানে ভাই মানবেতর অবস্থায় আছে।’ সাবেক ফুটবলাররা মিলে মহসিনের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।








