অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে ব্যবস্থা নিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ব্যর্থতার জন্য তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সাত জন জাতীয় ফুটবলারকে কারণ দর্শাতে বলেছে বাফুফে।
এই সাত ফুটবলার হলেন অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, উইঙ্গার জাহিদ হোসেন, ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান, ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান মিশু, মিডফিল্ডার সোহেল রানা, গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল ও ডিফেন্ডার ইয়ামিন মুন্না। অচিরেই বাফুফে ভবনে হাজির হয়ে এই সাত ফুটবলারের জবানবন্দি নেবে বাফুফে। জাতীয় দল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল, আরও দুই সদস্য বাদল রায় ও আনোয়ারুল হক হেলাল এই ফুটবলারদের সাক্ষ্য নেবেন। শেষ পর্যন্ত দোষী প্রমাণিত হলে এই সাতজন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন বলে জানিয়েছে বাফুফে।
এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, 'সবার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। খেলোয়াড়দের তাদের অভিযোগ শোনার অধিকার রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বলার সুযোগও রয়েছে। পারফরম্যান্স নয় শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তাদেরকে শোকজ করা হচ্ছে।'
শোকজের মুখোমুখি হওয়া সাত ফুটবলারের তালিকায় নাম নেই জাতীয় দলের আরেক ডিফেন্ডার রায়হান হাসান। অথচ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তার নামেই বেশি। শোনা যাচ্ছে সাফের দলনেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তার নাম এখানে উঠে আসেনি। এ ব্যাপারে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন , 'এই সাত জন ছাড়া অন্য কারও ব্যাপারে আমাদের কাছে প্রমাণ নেই। তবে প্রয়োজনে আমরা তদন্ত কমিটির করে তদন্ত করতে পারি।'
খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বক্তব্য শোনার পর জাতীয় দল কমিটি ২৯ ফেব্রুয়ারি অথবা ১ মার্চের দিকে পুনরায় সভা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সাত জনের ডিসিপ্লিন ভঙ্গ ছাড়াও তদন্ত কমিটি আরও কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুটবলারদের অনেক সময় জুড়ে সামাজিক মাধ্যমে থাকার বিষয়টিও। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে অধিনায়ক মামুনুলসহ কয়েকজন ফুটবলারের সমালোচনা করেছে। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম গত পরশু পদত্যাগ করেছেন। তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ না দেখাতেই পদত্যাগ করেছিলেন আসলাম। আসলামের পদত্যাগ প্রসঙ্গে নাবিল আহমেদ বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে উনি পদত্যাগ করতেই পারেন। জাতীয় দল কমিটির পক্ষ থেকে কিছু বলার নেই। রিপোর্ট দিয়ে উনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কখন সভা করব এটা জাতীয় দল কমিটির ব্যাপার।'
/আরএম/এমআর/








