হাভিয়ের কাবরেরার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার কোচিংয়ে এই প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দল খেলতে যাচ্ছে। স্প্যানিশ কোচের অধীনে গত এক বছরে শুধু সেশেলসের বিপক্ষে জয় ছাড়া সাফল্য নেই বললেই চলে। তাই ভারতে বেঙ্গালুরুর সাফের আসরটা কাবরেরার জন্য অগ্নিপরীক্ষাই। হয়তো চাপটা বুঝতে পারছেন স্প্যানিশ কোচ। তাই যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে সপাটে ব্যাট চালিয়ে গেছেন, কোনও সময় ব্যাকফুটে গেছেন। আবার আগ্রাসী হতে দেখা গেছে তাকে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতে মাত্র কদিনের অনুশীলন হলো বাংলাদেশের পুঁজি। শনিবার কম্বোডিয়ায় যাবে দল। ১২ জুন স্থানীয় টিফি আর্মি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জামাল-তপুরা। আর ১৫ জুন স্বাগতিক দেশের বিপক্ষে হবে ফিফা প্রীতি ম্যাচ। সেখান থেকে দল যাবে বেঙ্গালুরুতে।
কাবরেরা তাই পুরো প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বলেছেন, ‘খুব ইতিবাচক। কারণ ভালো প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছি। কিছু চোট সমস্যা আছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি অন্যদের প্রমাণ করার সুযোগ করে দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারা নিজেদের প্রমাণ করার জন্য মুখিয়ে আছে। তাই আমরা একই লক্ষ্য (সেমিফাইনাল) নিয়েই দেশ ছাড়ছি।’
সাফে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে লেবাননের মতো শক্তিশালী দেশ। যারা এই প্রথম সাফে খেলবে। তাদের সমীহ করে কাবরেরা বলেছেন, ‘ফিফা র্যাংকিংকে যদি আপনি মাপকাঠি ধরেন, তবে আমাদের গ্রুপে অবশ্যই লেবানন অনেক এগিয়ে। বিশেষ করে শারীরিক দিক থেকেও তারা শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে আমরা বিশ্বাস করি তাদের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের আছে। এই ম্যাচটার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। কারণ এটা আমাদের প্রথম ম্যাচ। মালদ্বীপ ও ভুটানকে আমরা আমাদের সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছি। মালদ্বীপও ফিফা র্যাংকিংয়ে বেশ এগিয়ে আছে। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করার ক্ষমতা রাখি।’
লেবানন ছাড়াও একই গ্রুপে রয়েছে মালদ্বীপের মতো অভিজ্ঞ দল। যাদের কাছে সবশেষ পাঁচটি সাফে বাংলাদেশ হেরেছে। কাবরেরাকে তা মনে করিয়ে দিতেই উত্তর দিলেন এভাবে, ‘সেমিফাইনালের লক্ষ্য পূরণে মালদ্বীপ সামনে চলে আসছে। মালদ্বীপও চাইবে সেমিতে যেতে, আমরাও চাইবো। অবশ্যই মালদ্বীপ অনেক শক্তিশালী দল। র্যাংকিংয়ে এবং রেকর্ডের দিক থেকেও হয়তো তারা এগিয়ে। তবে সেমিফাইনালে যেতে হলে এই ম্যাচটা জিততে হবে। কাজটা মোটেই সহজ নয়। তারপরও জয়ের বিকল্পও নেই। আমরা গত তিন মাস ধরে প্রতিটি প্রতিপক্ষের খোঁজ খবর রাখছি। লিগে কে কেমন খেলছে, সে সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা তাদের হারাবো।’
দলে দুই নতুন মুখ শেখ মোরছালিন ও রফিকুল ইসলাম। তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন কাবরেরা। এছাড়া দলের সবার ওপর সমান ভরসা রেখে ৩৭ বছর বয়সী কোচ বলেছেন, ‘তারা প্রমাণ করেছে এই পর্যায়ে খেলার জন্য তারা প্রস্তুত। এখানে কে দলে আছে, কে নেই এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, যারা আছে তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। খেলোয়াড়দের ব্যপারে এখন প্রশ্ন না করাই ভালো। আসুন সবাই মিলে দলটাকে বিশ্বাস করি, সবাই মিলে কিছু একটা অর্জন করি। এখন সমালোচনা বন্ধ করি, প্রশ্ন করা বন্ধ করি। শুধু এই তালিকার ওপর ভরসা করি। আস্থা রাখি যাতে তারা দেশের জন্য ভালো কিছু এনে দিতে পারে। দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। নতুনরাও আসছে। দেড় বছরে দলটা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। পারফরম্যান্স দিক থেকে আমরা অবশ্যই ইতিবাচক।’









