যশোরের বেনোপলের ভবারবেড় গ্রামে জন্ম রাব্বী হোসেন রাহুলের। ভারত সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়াতে সেখানে মাদকের বেশ আনাগোনা। অনেকে তা সেবনও করে আসছেন। ছোটবেলা থেকেই এসব দেখে বড় হয়েছেন রাহুল। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন তার, মাদক তাকে গ্রাস করতে পারেনি। মাদককে এড়িয়ে ফুটবল ঘিরেই তার বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন থেকেই আজ ১৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকারকে লাল-সবুজ দলের প্রাথমিক দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ২৮ সদস্যের বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে রাহুল সুযোগ পেয়েছেন রাহুল। ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে লিগে ৫ গোল করে হাভিয়ের কাবরেরার নজরে চলে আসেন। বেনোপল থেকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন খুশির খবর শুনে রাহুল যারপরনাই উচ্ছ্বসিত। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি জানালেন, ‘এটা অনেক খুশির খবর। আমি একদিন আগেই ঢাকায় আসবো। এসেই পরের দিন সৌদি আরবে যাবো সবার সঙ্গে। জাতীয় দলে সুযোগ পাবো। অনুশীলন করতে পারবো। নিজের ক্যারিশমা দেখাতে পারলে মূল দলেও জায়গা হবে। এটা তো অনেক খুশির খবর।’
তবে রাহুলের এই মুহূর্তে প্রয়াত বাবার কথা মনে পড়ে আবারও বেশ খারাপও লাগছে। গত বছরই বাবা লাল মিয়া প্রয়াত হয়েছেন। রাহুল তাই বলেছেন, ‘বাবা ছিলেন বড় অনুপ্রেরণার জায়গা। তিনি চাইতেন ফুটবল খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পাবো। তিনি তা দেখে যেতে পারলেন না। এমন দিনে বাবার কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। এই কষ্টটা সবসময় থাকবে।’
রাহুলের উত্থান একাডেমি কাপ দিয়ে। এরপর ২০২২ সালের জাতীয় স্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নেন। বেনাপোলের মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের বাবার নামে গড়া এই একাডেমির ফুটবলাররাই সেবার খেলেন জাতীয় স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপে। রাহুল বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জার্সিতে টুর্নামেন্টে সেরা হন। এরপর তৃতীয় বিভাগ ফুটবলের দল বিক্রমপুর কিংসের হয়ে লিগে ফ্রি কিকে দর্শনীয় একটা গোল করেন দিপালী যুব সংঘের বিপক্ষে। ওই গোলটি নজরে আসে বসুন্ধরা কিংসের একাডেমির কোচদের। এরপরই কিংস একাডেমিতে সুযোগ আসে। সেখান থেকে ওয়ারি হয়ে ধারে ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলছেন।
রাহুল ব্রাদার্সের হয়ে এরই মধ্যে গোল করেছেন বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী লিমিটেড, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও ফর্টিসের মতো দলের বিপক্ষে। ৯ ম্যাচে এ পর্যন্ত ৫ গোল করে স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে আছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের তালিকায়। ৬ গোল করে সবার ওপরে আছেন রাকিব হোসেন।
বেনোপাল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া রাহুল একটু পেছনে ফিরে গেলেন, মাদক থেকে কীভাবে দূরে থেকে ফুটবলে জায়গা করে নিলেন তা শোনালেন, ‘আসলে সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়াতে নিজের এলাকাতে আমার বন্ধু বান্ধবকে দেখেছি মাদকের ছোবলে শেষ হয়ে গেছে। আমারও হয়তো সেই অবস্থা হতো। তবে পরিবার থেকে ইতিবাচক শিক্ষা পাওয়ায় তা থেকে দূরে থাকতে পেরেছি। ফুটবল নিয়ে থাকায় মাদকের কাছ থেকে দূরে থাকতে সুবিধা হয়েছে। আমি মনে করি খেলার মধ্যে থাকলে মাদককে স্পর্শ করা যায় না।’
রাহুল দুই উইংয়ে খেলতে পারেন। আবার নম্বর নাইনেও আস্থা। কাবরেরার চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়াটাই ১৭ বছর বয়সীর বড় চ্যালেঞ্জ। রাহুল মানছেনও তা, ‘কিংসে অনুশীলন করে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। বড় দলের বিপক্ষে গোল পেয়েছি। আশা করছি নিজেকে ঠিকমতো গড়তে পারলে মূল দলে জায়গা হবে। আশি আশাবাদী।’








