বিশ্বকাপ বাছাইয়ে লেবাননের বিপক্ষে ঢাকার মাঠে দর্শকরা ‘সেভ প্যালেস্টাইন’ নামে ব্যানার উঁচিয়ে ধরেছিলেন। ম্যাচশেষে ব্যানার ধরে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষও। সবকিছুই ছিল ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনের পাশে থাকার জন্য। বৃহস্পতিবার অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে ফিলিস্তিনের পাশে থাকার কোনও সুযোগ নেই জামাল ভূঁইয়াদের। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একই গ্রুপে থাকায় তাদের এখন একে অপরের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই অবস্থায় আবেগকে একপাশে রাখতেই হচ্ছে। ভ্রাতৃত্ব আর সহমর্মিতা ছাপিয়ে এখন মাঠের লড়াইয়ে মনোনিবেশ করছেন তারা। যে লড়াই থেকে ফিলিস্তিন চাইছে পূর্ণ তিন পয়েন্ট। বিপরীতে বাংলাদেশের চাওয়া নূন্যতম এক পয়েন্ট।
বাংলাদেশ গত বছর যেভাবে নৈপুণ্য দেখিয়েছে তাতে এটা বড় কোনও চাওয়া নয়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়াও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে লেবাননের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছে। এবার নতুন বছরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ র্যাঙ্কিংয়ে ৮৬ ধাপ এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিন।
প্রতিপক্ষ লেবানন আর ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ পার্থক্যও বিদ্যমান। এশিয়ান কাপে ফিলিস্তিনিরা দারুণ খেলেছে। তাদের পারফরম্যান্সও চোখে পড়েছে বেশ। আজকের ম্যাচটিতে কুয়েতের মাঠে ফিলিস্তিন যদি আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় তাহলে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এই প্রতিপক্ষকে সামলাতেই সৌদি আরবে দুই সপ্তাহ অনুশীলন করে একটি দল হয়ে খেলার চেষ্টায় ছিল হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। এবার অবশ্য গত বছর ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখানো দুই তুরুপের তাস শেখ মোরসালিন ও তারিক কাজী নেই। চোটের কারণে সৌদি আরবে ক্যাম্প শুরুর আগেই তারা ছিটকে গেছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য এই লড়াইটাকে পরীক্ষা বলতে হবে। ফিলিস্তিন ৪-৪-২ ছকে খেলতে অভ্যস্ত হলেও আক্রমণভাগে আবার বেশকজন যোগ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তপু-হাসান মুরাদদের বেশ সতর্ক থাকতে হবে। যেন ক্রস বা সেটপিস থেকে গোল না আসে। তাই তারিক কাজীর অনুপস্থিতি দল অনুভব করবে। শারীরিকভাবে কাছাকাছি থাকায় ফিলিস্তিনের বিপক্ষে লড়াইটা বেশ ভালো করেই করতে পারতেন ফিনল্যান্ড থেকে আসা ডিফেন্ডার।
শুরুতে এ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন দলে যারা আছেন তাদের ওপরই ভরসা খুঁজতে হচ্ছে। এছাড়া মোরসালিনের বিকল্প হিসেবে ফাহিম, রাহুল কিংবা কাজেমদের মধ্যে একজনকে খুঁজে নিতে যাচ্ছেন স্প্যানিশ কোচ। ফিলিস্তিনের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়ে যতদূর সম্ভব প্রতি আক্রমণ নির্ভর খেলে যদি কিছু করা যায়। এজন্য দ্রুতগতির রাকিব হোসেন অন্যতম ভরসা।
পরিসংখ্যান বলছে, ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। ৬বার মুখোমুখিতে একবার মাত্র ড্র করতে পেরেছে। বাকি পাঁচবার হেরেছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে তাও ২০০৬ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে; বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।
ফিলিস্তিনের এবারের দলটিকে তো ভাবা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে ভীষণ শক্তিশালী। তা নাহলে দলটি আরব আমিরাতের সঙ্গে ড্র কিংবা কাতারের সঙ্গে আর একটু হলেই পয়েন্ট পেতে পারতো। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাই আবেগ সামলে বাংলাদেশকে মরণকামড় দিতে হবে। তবে শারীরিকভাবে ৬ ফুট উচ্চতার খেলোয়াড়দের বিপক্ষে ৯০ মিনিট একাগ্রচিত্তে খেলে পয়েন্ট বের করা যে বেশ কঠিন তা সবাই বুঝতে পারছেন। যেহেতু লেবাননও শক্তির দিক দিয়ে কাছাকাছি। কিন্তু কিংস অ্যারেনাতে তাদের বিপক্ষে লড়াই করে যদি এক পয়েন্ট আনা যায় তাহলে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে কেন নয়?









