ক্যারিয়ারে বড় অংশ জুড়ে কমলা জার্সিধারীদের হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। দুই বছর আগে অবসর নিয়ে স্কলাস্টিকা স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক হয়ে ভালোই সময় কাটছিল ফয়সাল মাহমুদের। এই মৌসুমে প্রিয় ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন আবার প্রিমিয়ারে উঠলে হঠাৎ ডাক পরে সাবেক এই মিডফিল্ডারের। খেলোয়াড় থেকে প্রথমবারের মতো সহকারী কোচ হয়ে শুরুটা করলেও বেশিদিন তা স্থায়ী হয়নি। দুই ম্যাচে দাঁড়াতে পেরেছিলেন ডাগ আউটে।
এরপর ক্লাবের অবস্থা সঙ্গীন দেখে মাত্র এক মাস যেতে না যেতেই ফয়সালকেও ছাড়তে হয়েছে ডাগ আউট! এনিয়ে আক্ষেপ কম নয় ২০০৩ সাফজয়ী সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের। কমলা জার্সিধারীদের ভেতরের অবস্থা এতটাই খারাপ যে কোচিং করানোর মতো অনুকূল পরিবেশ পেতেই কষ্ট হয়েছে। কোনোভাবে মাসখানেক শিষ্যদের নিয়ে ঘাম ঝরালেও এরপর আর থাকা সম্ভব হয়নি। তখন শুরুতে হেড কোচ না থাকায় ফয়সালের ওপরই ছিল সব দায়িত্ব।
আর একসময়ের ঐতিহ্যবাহী দলটি এখন গাম্বিয়ার কোচ ওমর সিসের অধীনে খাবি খাচ্ছে। মাঝে ‘এ’ লাইসেন্সধারী আজমল হোসেন বিদ্যুৎ দায়িত্ব নিয়েও বেশিদিন থাকেননি। ব্রাদার্স ৭ পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশনের দিকে যাচ্ছে এগিয়ে। কেন একমাস কোচিং করিয়ে দল ছেড়েছিলেন ফয়সাল? এমন প্রশ্ন করা হলে ৩৯ বছর বয়সী সাবেক মিডফিল্ডার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ব্রাদার্স ইউনিয়ন হলো আমার অন্যতম প্রিয় ক্লাব। এই ক্লাবে টানা অনেক বছর খেলেছি। ক্লাবের প্রতি আমার মায়াও কম নয়। কিন্তু কাজ করতে এসে দেখি এখানে কোনও কিছু ঠিক নেই। একটি প্রিমিয়ারের ক্লাবের যা যা থাকা দরকার কিংবা যা করা উচিত তার অনেক কিছুর অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কিছু দিন কাজ করে চলে এসেছি।’
দুই মৌসুম আগে ব্রাদার্সের লিগ থেকে অবনমনের সময় ফয়সাল খেলেছিলেন। তখন ছিলেন ইরানের কোচ রেজা পার্কাস। সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে আরও বেশি খারাপ অবস্থা বলে ফয়সালের অভিমত, ‘শেষবার যখন খেলেছিলাম অনেক সমস্যা থাকলেও একটা পর্যায়ে থেকে সবকিছু শেষ হয়েছে। কিন্তু এবার কাজ করতে এসে দেখলাম অনেক কিছুই ঠিক নেই। খাওয়া, থাকা কিংবা অনুশীলন। সব জায়গায় সমস্যা আছেই। পারিশ্রমিক নিয়ে কথা নাই বা বললাম। এভাবে হলে তো একটি দল নিয়ে আপনি বেশিদূর এগোতে পারবেন না।’
এএফসি ‘বি’ লাইন্সেধারী কোচ ফয়সালের কোচিংয়ে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। তাই আফসোসের সঙ্গে বলেছেন, ‘কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে এভাবে ধাক্কা খাবো, তা কখনও চিন্তা করিনি। অনেক আশা নিয়ে কোচিং স্টাফের একজন হয়ে ক্লাবে কাজ করতে এসেছিলাম। কিন্তু আর নিজের সঙ্গে পারছিলাম না। সবকিছুতেই অব্যবস্থাপনা থাকলে দল নিয়ে কতদূর যেতে পারবেন। দেখুন ক্লাবটি এখন রেলিগেশনের দিকে যাচ্ছে। যদি শুরু থেকে এর যত্ন নেওয়া হতো তাহলে হয়তো দূরবস্থা দেখা হতো না।’
তবে এই মৌসুমে কোচিংয়ে এসে ফয়সাল ধাক্কা খেলেও এখানেই থেমে থাকতে চান না। ২১ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে ব্রাদার্স ছাড়াও মোহামেডান, শেখ রাসেল ও মুক্তিযোদ্ধায় খেলেছেন। ২১ বছর আগে ঢাকায় সাফজয়ী সদস্য লাল-সবুজ দলেও খেলেছেন বেশ কয়েক বছর। অবসরের পর কোচিংয়ে নাম লিখিয়ে শুরুর অভিজ্ঞতা ভালো না হলেও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইছেন।
ফয়সাল নিজেই বললেন, ‘সামনের দিকে এ লাইসেন্স কোর্স করবো। সুযোগ পেলে অন্য যে কোনও ক্লাবের হয়ে মাঠে-ময়দানে কাজ করতে চাই। ফুটবলার থেকেই এই পর্যন্ত এসেছি। তাই ফুটবলকে কিছু দেওয়ার ইচ্ছাও আছে। দেখি সামনের দিকে কী হয়!’









