ব্যাকআপ গোলকিপার হিসেবে দলের সঙ্গে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে নেপালে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ আসিফ। বীরের বেশে বাংলাদেশকে ফাইনালে নেওয়া তো দূরের কথা, কল্পনাও করেননি মাঠে নামতে হবে তাকে। অধিনায়ক ও এক নম্বর গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ ইনজুরিতে মাঠের বাইরে গেলে ৬৫ মিনিটে গ্লাভস পরতে হয় আসিফকে। নির্ধারিত সময়ে তাকে ভেদ করে ভারত সমতা ফেরালেও টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক তিনি।
দুর্ভাগ্যজনক কারণে মাঠে নামতে হলেও মানসিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত ছিলেন বললেন আসিফ, ‘আমি যখন মাঠে নামি, তখন আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। আমি নামার পর একটা (গোল) হজম করি। তারপরও মানসিকভাবে শক্ত ছিলাম। ম্যাচ যেহেতু ড্র আছে, টাইব্রেকারে গেলে যেন জিততে পারি, নিজের ওপর এই বিশ্বাস রেখেছি।’
টাইব্রেকারে প্রতিরোধ গড়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এই কিপার, ‘আমার সতীর্থরা একেক জন একেক কথা বলছিল, তুই পারবি, এইসব…। আমারও নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। আর আমি ওদেরকে একটা কথাই বলেছি, তোমরা পাঁচটায় পাঁচটা গোলই করো, এর মধ্যে আমি ১-২টা সেভ করব, আমার ওপর এই বিশ্বাস রাখো।’
পেনাল্টি শুটআউটে স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়েননি আসিফ, নিজের কৌশল সম্পর্কে জানালেন, ‘আমি স্বাভাবিক ছিলাম। আমার বিপক্ষে যে শটটা নেবে তাকে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, আমি স্বাভাবিক আছি। আর তার সঙ্গে মেন্টাল গেম খেলতে চেয়েছি, যেন সে স্নায়ুচাপে পড়ে।’
বরং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা ছিল তার, ‘প্রথমটায় আমি তাকে একটু ধোঁকা দিছি, এক সাইডে দেখিয়ে আরেক সাইডে ঝাঁপ দিছি। ও আসলে এটা বোঝেনি, এই জন্যই বলের লাইনটা পেয়েছি। শেষ শটটা নেওয়ার আগে আমি ওর সঙ্গে মেন্টাল গেম খেলতে চেয়েছিলাম। তাকে বলছিলাম, তোমার শটটা আমি সেভ করবো, এমন কিছু। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, সে একটু চাপ অনুভব করছে। এরপর সে সোজা মেরে দিল।’
আগামী বুধবার স্বাগতিক নেপালের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। চোট পাওয়া শ্রাবণের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন আসিফ, ‘শ্রাবণের সঙ্গে সব সময়ই কথা হচ্ছে। সে যেহেতু আমার রুমমেট ও বন্ধু, আমি মাঠ থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আগে ফোন দিয়েছি। সকাল বেলাও দুইবার কথা হয়েছে। ওর যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, তাই আমার সতীর্থ ও দেশবাসীর কাছে চাওয়া ওর জন্য দোয়া করবেন, ও যেন খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পারে।’









