ভারতকে অনায়াসে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার দারুণ জয়ের পর আজ কাঠমান্ডুর হোটেলে ফুরফুরে মেজাজে সাবিনা-রুপনারা। দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তো দলের নানান দিক নিয়ে কথা বলেছেন। আলোচনায় এসেছে সিনিয়র-জুনিয়র সিন্ডিকেট প্রসঙ্গও।
হোটেলের বাইরে সাবিনা শুরুতে ভারত ম্যাচের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের আগের সাফের অভিজ্ঞতা আছে। প্রতিটা ম্যাচই কঠিন হয়। সে জায়গা থেকে মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে যে দল নিয়ে খেলা হয়েছে, এখন সে দল থেকে দুই তিনটা পরিবর্তন আসলে আরও গোছালো ফুটবল খেলবে।’
মাঝমাঠে বাংলাদেশের দুই অস্ত্র মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমা। তাদের সঙ্গে সাবিনার রসায়নও ভালো। এই বিষয়ে সাবিনা বলেছেন, ‘মারিয়া ও মনিকার সঙ্গে আমার রসায়ন সবসময় ভালো থাকে। তিনজনের বন্ধনটা ভালো হলে ও মাঝমাঠ ভালোভাবে দখলে রাখতে পারলে প্রতিপক্ষের জন্য সবসময় তা ভয়ের। সেদিক দিয়ে চেষ্টা করেছি, ওদের দুজনের সঙ্গে মিল রেখে ও উইঙ্গার যারা আছে, তাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রেখে খেলার।’
দলে এবার নানান বিতর্ক চলছে। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব আছে বলে কারও কারও ধারণা। যদিও ভারত ম্যাচে সবকিছু উবে গেছে। সাবিনার ভাষায়, ‘তর্ক-বিতর্ক থাকবে। তা থাকলে চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়। ভালো করা যায়। আমি তা সবসময় ভালোভাবে নেই। ইতিবাচকভাবে নেই। দুর্বলতা আছে বলেই বিতর্ক হয়। ওই জায়গা থেকে নিজেদের উন্নতি করার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। সেই জায়গা থেকে হয়তো মেয়েরা করছে।’
এরপরই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সাবিনার আহ্বান, ‘বিতর্কটা হয়তো আমি নিতে পারবো। তবে তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আমি হয়তো তা নিতে পারবো। আমার যারা জুনিয়র আছে, তারা হয়তো নিতে পারবে না। তাদের মনেরও বিষয় আছে। তারা দুঃখ পায়। বিতর্ক হলে তা ইতিবাচক হোক, যেন মেয়েরা ভালো করতে পারে।’
ম্যাচের আগে এখন সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের সঙ্গে কথা বলে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাবিনারা। বাংলাদেশ অধিনায়ক এই ব্যাপার স্বীকার করে বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থে খেলোয়াড়দের সবসময় বলে থাকি, আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি ম্যাচের আগে ছোটন স্যারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। ১৪ বছরের সম্পর্ক। উনি আমাদের সবাইকে চেনেন। স্যার বলেছেন হারলে বা জিতলে সেমিফাইনালে যাবে। ড্র করলেও। ফাইনাল খেলার সুবর্ণ সুযোগ থাকবে। জানপ্রাণ দিয়ে খেলতে হবে। আমি আসলে ওই বার্তাটা আমি তার হয়ে নিজেই দিয়েছি। যেহেতু বির্তক হচ্ছে।’
জোড়া গোল করা তহুরা খাতুনের প্রশংসা করে সাবিনা বললেন, ‘তহুরার গোল দুটি ভালো হয়েছে। দ্বিতীয়টি তো অসাধারণ ছিল।’
সবশেষ দলে ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে মুখ খুলেছেন দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড, ‘অদ্ভুত বিষয়। মিডিয়া থেকে তৈরি হয়েছে। তা হওয়া উচিত ছিল না। সিনিয়র-জুনিয়র সিন্ডিকেট কথাটা এসেছে। তাদেরকে (জুনিয়রদের) চাপে রাখা হয়। ছুটি থেকে আসার সময় সিনিয়ররা বাসা থেকে আসলে তাদের জন্য কিছু আনা হয়। ভালো রেস্টুরেন্টে গেলে তাদের মানে রুমমেটদের নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়গুলো যদি আপনাদের মনে হয় সিন্ডিকেট, তাহলে সিন্ডিকেট। আমার মনে হয় তাদের অনেক স্নেহ করা হয়। এখন আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। বাসায় গেলে। টুর্নামেন্ট শেষে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।’









