সাম্প্রতিক সময়ে মালদ্বীপের জাতীয় দলে স্থানীয় কোচের ডাক পড়লেই আলী সুজেইন আছেন। কয়েক বছর ধরেই অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হয়ে দ্বীপদেশটির ডাগআউট সামলাচ্ছেন ৫৫ বছর বয়সী দীর্ঘকেশের দীর্ঘদেহী ভদ্রলোক। তবে এবারের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। এমন সময় দেশটির ডাগআউটে দাঁড়াতে হচ্ছে, যখন এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে। ঠিক এই অবস্থায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩ ও ১৬ নভেম্বর দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ নিতে যাচ্ছে দলটি। আলী ফাসির-হামজারা সোমবার দুপুরে ঢাকায় আসছেন। আর ঢাকায় আসার আগেই সুজেইন রাতে মালে থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন, ‘বাংলাদেশকে হারাতে আমরা ঢাকায় আসছি। তবে তাদের মাঠে হারানো কঠিন।’
বাংলাদেশ কিন্তু মালদ্বীপকে ঘরের মাঠে ডেকেছে শুধু খেলাটাই মুখ্য নয়। ২০২৫ সালের এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ড্রতে পট থ্রিতে থাকতে পারলে তখন প্রায় সমমানের দল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ জন্য বাংলাদেশ দলকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যথাসম্ভব এগিয়ে থাকতে হবে। সবশেষ ভুটানের বিপক্ষে খেলে তেমন লাভ হয়নি। এবার র্যাঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে থাকা মালদ্বীপকে ঘরের মাঠে ডেকে নিয়ে এসে বিজয়ের হাসি হাসতে চাইছে হাভিয়ের কাবরেরার দল।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মালদ্বীপ আছে ১৬৩-তে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৫ নম্বরে। এক বছরের বেশি সময় ধরে খেলার বাইরে থাকা মালদ্বীপ দল এবার ঢাকায় আসার আগে সতর্ক। তাদের ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে এখনও পুরোপুরি সংকট কাটেনি। ফিফা থেকে কর্মকর্তা প্রেরণ করা হয়েছে। এরপর হবে নির্বাচন। তাতে যদি স্বস্থি ফেরে দেশটিতে। আলি সুজেইন তাই বলছিলেন, ‘সেই যে গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলেছি, এরপর আর ম্যাচ খেলা হয়নি। নানা সমস্যার কারণে আমরা খেলা থেকে দূরে ছিলাম। এখন আবার নতুন করে খেলা শুরু করতে যাচ্ছি। অনেক দিন পর খেলা হতে যাচ্ছে । তাই সবাই খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। আমি নিজেও।’
মালদ্বীপ দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক খেলার মধ্যে তো নেই, ঘরোয়া ফুটবলও অনেকটাই বন্ধ। শুধু মাঝে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে মাঝিয়া এফসি খেলেছে। সুজেইনের ভরসা সেই দলের ১৬ জন খেলোয়াড়! এছাড়া দলে রয়েছে ৪ জন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়। তাদের ঢাকার মাঠে অভিষেক হতে যাচ্ছে। মাত্র ১৫ দিন পুরো দলকে অনুশীলন করাতে পেরেছেন সুজেইন। এটা যথেষ্ঠ না হলেও তিনি আশাবাদী, ‘আমার দলে আলি ফাসির-হামজার মতো খেলোয়াড় রয়েছে। তারা যে কোনও সময় ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিকালি তারা ভালো। তবে এটা সমস্যা অনেক দিন খেলা নেই। তবে মাঝিয়ার ১৬ জন খেলোয়াড় দুই মাসের অনুশীলনে ছিল। আমার অধীনে আরও ১৫ দিন। তাই আমার কাছে মনে হয় ঢাকায় আমরা হারবো না।’
প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালোই খোঁজ-খবর রাখেন কোচ নিজেই। সাম্প্রতিক সময়ে ভুটানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে বাংলাদেশ একটিতে জয় ও অন্যটিতে হেরেছে। সেই ম্যাচ দেখে সুজেইনের মন্তব্য, ‘বাংলাদেশের পারফরম্যান্স গত বছরের চেয়ে কিছুটা হতাশাজনক মনে হয়েছে। জানি না আগের সব খেলোয়াড় এবার খেলছে কিনা। তবে আমি মনে করি আমরা জয়ের জন্য ঢাকায় আসছি। তবে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে। বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে কঠিন দল। তারা চাইবে আমাদের হারাতে। আর আমরাও চাইবো জিততে। তাই কঠিন ম্যাচ হবে।’
শেষ তিনটি ম্যাচে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো। দুটিতে জয় ও একটিতে ড্র। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ড্র ও জয় আছে। যদিও ২০১৬ সালে মালেতে গিয়ে ৫ গোলে হারের লজ্জা আছে। দুই দল এখন পর্যন্ত ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ জিতেছে ৬টিতে। ড্র ৪টিতে। মালদ্বীপ জিতেছে ৮ ম্যাচ।
এবার কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ আবারও ঢাকার মাঠে জিততে পারবে কিনা তা সময় বলে দেবে। কেননা এই দুটি ম্যাচের ওপর তার চুক্তি নবায়নের ভাগ্য নির্ভর করছে। ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে তার চাকরির মেয়াদ। অন্যদিকে সুজেইনের বড় পরীক্ষাও ঢাকার মাঠে। অনেক দিন পর ফিরে কেমন ফল হয়, নিশ্চয়ই তা জানতে মালের ক্রীড়ামোদিরাও তাকিয়ে থাকবে।









