আগামী মাসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিলি ও বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। নেইমারের ফেরাটা আসন্ন ম্যাচগুলোতেও হচ্ছে না। চোট সমস্যায় তাকে বাইরে রেখেই দল ঘোষণা করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও। ফিরেছেন লুকাস পাকেতা।
৩৩ বছর বয়সী নেইমার জানুয়ারিতে সান্তোসে ফেরার পর থেকে প্রায় দুই বছর হয়েছে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি। এই সময়ে বিভিন্ন চোট সমস্যায় পড়েছেন। তাকে সাইড লাইনে রাখার কারণ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘গত সপ্তাহে নেইমার ছোট একটা সমস্যায় পড়েছে।’ যার বিস্তারিত জানাননি ব্রাজিল কোচ। তবে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চগোলদাতা অনুশীলনে ঊঁরুরু চোটে অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। অবশ্য বাছাই পর্বের শেষ দুটি ম্যাচে তার অনুপস্থিতিকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না কোচ। কারণ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আগেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কেটেছে।
নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির কথা, ‘নেইমারকে পরীক্ষা করার দরকার নেই। সবাই তাকে চেনে। অন্যদের মতো তাকেও শারীরিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকতে হবে যাতে জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চটা দিতে সাহায্য করতে পারে।’
আনচেলত্তির পূর্বসূরি দরিভাল জুনিয়র মার্চ মাসে নেইমারকে কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দলে ডাকলেও ঊঁরুর চোটে তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন।
জুনে আনচেলত্তির অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র করে ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়েকে হারায় ১-০ গোলে। শেষ ম্যাচটিতে ভিনিসিয়ুসের গোলে নিশ্চিত হয় ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট। ৫ সেপ্টেম্বর মারাকানা স্টেডিয়ামে চিলির বিপক্ষে নিষিদ্ধ থাকায় বলিভিয়ার উচ্চভূমিতে ৯ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে তাকে খেলানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি ব্রাজিল।
এদিকে, গত মাসে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের রায়ে বেটিং কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দলে ফিরেছেন পাকেতা। ওয়েস্ট হ্যামের এই মিডফিল্ডার ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। এছাড়াও ফিরেছেন জোয়াও পেদ্রো। জুলাইয়ে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি। ২৩ বছর বয়সী এই সেন্টার ফরোয়ার্ড ক্লাব বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছেন। সেমিফাইনালে তার করা দুটি গোলে বিদায় নেয় শৈশবের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স এবং ফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে করেন তৃতীয় গোল।
ব্রাজিল দল:
গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল/ইংল্যান্ড), বেন্তো (আল-নাসর/সৌদি আরব), হুগো সুজা (করিন্থিয়ান্স)
ডিফেন্ডার: আলেক্সসান্দ্রো (লিল/ফ্রান্স), আলেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), কাইও হেনরিক (মোনাকো/ফ্রান্স), ডগলাস সান্তোস (জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ/রাশিয়া), ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো (ক্রুজেইরো), গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (আর্সেনাল/ইংল্যান্ড), মার্কুইনহোস (পিএসজি/ফ্রান্স), ভ্যান্ডারসন (মোনাকো/ফ্রান্স), ওয়েসলি (রোমা/ইতালি)
মিডফিল্ডার: আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি/ইংল্যান্ড), ব্রুনো গুইমারায়েস (নিউক্যাসল/ইংল্যান্ড), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/ইংল্যান্ড), জোয়েলিন্তন (নিউক্যাসল/ইংল্যান্ড), লুকাস পাকেতা (ওয়েস্ট হ্যাম/ইংল্যান্ড)
ফরোয়ার্ড: এস্তেভাও (চেলসি/ইংল্যান্ড), গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি (আর্সেনাল/ইংল্যান্ড), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি/ইংল্যান্ড), কাইও জর্জ (ক্রুজেইরো), লুইস হেনরিক (জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ/রাশিয়া), মাতেউস কুনহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/ইংল্যান্ড), রাফিনহা (বার্সেলোনা/স্পেন), রিচার্লিসন (টটেনহ্যাম/ইংল্যান্ড)









