ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং জাপানের সাবেক প্রধান কোচ জিকো মনে করেন, বর্তমান জাপান জাতীয় দল এখন বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার মতো সক্ষম। তার মতে নকআউটে আসন্ন ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে ব্রাজিল। তিনি বলেছেন, ‘জাপান এখন সত্যিকারের ফুটবল খেলে।’
জাপানি ফুটবলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত জিকো স্বীকার করেন, এই ম্যাচটি তার জন্য আবেগের। তবে নিজের সমর্থনের ব্যাপারে তিনি পরিষ্কার। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন ‘আমি অবশ্যই ব্রাজিলকে সমর্থন করবো। কারণ আমি একজন ব্রাজিলিয়ান। তবে যদি জাপান জেতে, তাতেও আমার আপত্তি নেই। আমি শুধু জানি, এটি দারুণ একটি ম্যাচ হবে, কারণ জাপান এখন সত্যিকারের ফুটবল খেলে।’
নকআউটে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এটি হবে বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও জাপানের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম দেখা হয়েছিল ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে। যেখানে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পায়। সেবার জাপানের কোচ ছিলেন জিকো নিজেই।
সেই ম্যাচের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সেটা খুব আবেগের ছিল। ম্যাচের আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, স্কুলজীবন থেকে যেমন শিখেছি, তেমনভাবেই আমি ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত গাইবো। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি পুরোপুরি জাপানের পক্ষেই ছিলাম।’
তিনি আরও স্মরণ করেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি দিদির কথা। যিনি দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন এবং পরে ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেরুর কোচ হিসেবে ব্রাজিলের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।
জিকোর মতে, গত দুই দশকে জাপানি ফুটবলের উন্নতি অসাধারণ। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে প্রতিটি আসরেই জায়গা করে নিয়েছে তারা। এটি প্রমাণ করে যে, জাপান এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি, ‘এখন জাপান অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক দল। তাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপে খেলছে, যেমন আগে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়রা যেত। বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ২৩ জনই ইউরোপে খেলছে—বুন্দেসলিগা, সিরি আ ও প্রিমিয়ার লিগের মতো শীর্ষ লিগে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘গত দুই বিশ্বকাপেই জাপান শেষ ষোলোতে উঠেছে, যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারেনি। তবু এটি দেখায়, তারা কতটা এগিয়েছে। এখন তারা যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’









