বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে। বিদায়ের পর বিশ্বকাপের বাকি সময়ে মেক্সিকোকেই সমর্থন দেবে দলটি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আবেগঘন এক বার্তায় মেক্সিকোর তিহুয়ানার মানুষের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইরান দল বলেছে, এখন থেকে মেক্সিকোই তাদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ আর মেক্সিকোর জাতীয় দল হবে তাদের ‘দ্বিতীয় দল’।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় ইরান। পরিবর্তে দলটি ঘাঁটি গড়ে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায়।
বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিল দলটি। শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে সেই নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হলেও প্রতিটি ম্যাচ শেষে তাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নানান ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হলেও তিহুয়ানার আতিথেয়তা হৃদয় ছুঁয়েছে ইরান দলের। তাই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত এক বার্তায় তিহুয়ানা ও মেক্সিকোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তারা।
তারা বার্তায় লিখেছে, ‘সত্যিকারের আতিথেয়তা মানে সম্মান, মানবিকতা ও মর্যাদা। তিহুয়ানার মানুষের আন্তরিকতা আমরা কখনোই ভুলব না। আজ থেকে মেক্সিকো আমাদের কাছে শুধু আয়োজক দেশ নয়। এটি আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি, আর মেক্সিকো জাতীয় দল আমাদের দ্বিতীয় দল।’
এর আগে গ্রুপ পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ খেলার পরও ড্রেসিংরুমে স্বাগতিক শহরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি বার্তা রেখে গিয়েছিল ইরান।
কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের সঙ্গে হওয়া আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি। দলের কোচ আমির ঘালেনোই ও অধিনায়ক মেহদি তারেমি আগেই অভিযোগ করেছিলেন, অন্য দলগুলোর মতো সমান সুবিধা পায়নি ইরান।
বিদায়ী বার্তাতেও সেই অভিযোগেরই পুনরাবৃত্তি করেছে দলটি। অধিনায়কের কথা, ‘আমরা গর্ব নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করছি। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সব দল কি সত্যিই সমান সুযোগ ও সমান পেশাদার পরিবেশে খেলতে পেরেছে?’









