মিসর ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার পরীক্ষা নিচ্ছিলো। দুই গোলে এগিয়ে থেকে মিসর যেভাবে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তাতে করে ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল স্ক্যালোনির চাপ যেন বাড়ছিলই। তবে শেষ ১১ মিনিটে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। আর্জেন্টিনা তিন গোল করে উল্টো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। এতে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচেন স্ক্যালোনিসহ আর্জেন্টিনা দলের সবাই।
আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ঘুরে দাঁড়ানোর জয়ের পর মাঠে আবেগাপ্লুত লিওনেল স্কালোনি কথা বলতে পারছিলেন না। বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের এই নাটকীয় জয়ের পর, ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্বীকার করেন, ‘আজকের ম্যাচটি ছিল এমন এক পরীক্ষা, যা মনে দাগ কেটে যায়।’
কঠিন এক সমীকরণ পার করে আসার পর লিওনেল মেসির চোখে অশ্রু দেখা যায়। তার আবেগ এবং কান্না প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য।’
মাঠে লিওনেল মেসিকে যেভাবে কাঁদতে দেখা গেছে, ঠিক তেমনি কোচও নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষে আটলান্টা স্টেডিয়ামের মাঠে যখন তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, তখন স্কালোনি ভেঙে পড়েন। চরম উত্তেজনার মধ্যে মৃদুভাষী মানুষটি কেবল এটুকুই বলতে পেরেছিলেন, ‘আমি সোজা হয়ে তাকাতেও পারছি না, দুঃখিত, আমি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। কী এক অসাধারণ খেলোয়াড়দের দল ভাই! আমাকে এখন যেতে হবে, মাফ করবেন।’
অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই জয় নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পেরেছেন, ‘আজকের ফলাফলের গুরুত্ব আমাদের অতীতে পার করা অনেক কিছুর মতোই বড়। কারণ এই দলটি এমন এক দল যারা কখনো লড়াই থামায় না; ফুটবল আসলে এটাই। কৌশল এবং পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আজ আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে মানসিকতা ছিল, তা না থাকলে আমরা বাদ পড়ে যেতাম।’
কোচ আরও যোগ করেন, ‘লিও (মেসি) যেমনটা বলেছিল—এই খেলোয়াড়রা আপনাকে কখনো হতাশ করবে না, কথাটি অক্ষরে অক্ষরে সত্যি।’
অধিনায়ক মেসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লিও পেনাল্টি মিস করে সেখানেই থেমে যেতে পারত। কিন্তু সে সবসময় আবার সুযোগ খোঁজে, আবারও চেষ্টা করে। এটা আমার গায়ের লোম খাড়া করে দেয়।’
মিসরের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করার পাশাপাশি স্কালোনি উল্লেখ করেন, জাতীয় দল ‘অনেক সুযোগ’ তৈরি করেছিল এবং তার মনে হয়েছিল ম্যাচটি সবসময় তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘আমি এই ধরনের আবেগের অভিজ্ঞতা পেতেই কোচ হয়েছি, এরপরে অবশ্য আপনাদের মতোই আমিও ভুগি। এই অনুভূতি অতুলনীয়।’
অন্যদিকে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি আমাদের হারতেই হতো, তবে আমি এভাবেই হারতে পছন্দ করতাম। যদি কখনো তেমন দিন আসে, আমি চাইব দল যেন এভাবেই মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করে হারুক। আমাদের মনে সবসময় এই বিশ্বাস ছিল যে আমরা ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে পারব।’
সবশেষে, ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার পেছনে খেলোয়াড়দের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। সমস্ত বাধা সত্ত্বেও এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’
আগামী শনিবার সেমিফাইনালের উঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।









