বিশ্বকাপে আজ মাঠের লড়াইটা কোয়ার্টার ফাইনালের। কিন্তু ফ্রান্স ও মরক্কোর এই বিশ্বকাপ ম্যাচ শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। বোস্টনে আজ রাত ২টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। যে দুটি দেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপনিবেশের ইতিহাস, অভিবাসনের বাস্তবতা, পারিবারিক বন্ধন এবং ফুটবলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য সম্পর্ক।
মরক্কোর অনেক ফুটবলারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। আবার ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) খেলার সময়। তাই এই ম্যাচ কেবল দুটি দেশের নয়।
ম্যাচটি ঘিরে ফ্রান্সে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হওয়ায় ম্যাচটি তুলনামূলকভাবে বেশি চেনা আবহ তৈরি করতে যাচ্ছে। কারণ দুই দেশের ইতিহাস যেমন গভীরভাবে জড়িয়ে, তেমনি ভাষা, অভিবাসন ও আত্মীয়তার সম্পর্কও তাদের কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়েছে।
১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ফরাসিদের অধীনে ছিল মরক্কো। স্বাধীনতার পরও শিক্ষা, বাণিজ্য ও অভিবাসনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। আর সেই সম্পর্কের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যায় ফুটবলে। বর্তমান মরক্কো দলে থাকা ছয় ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। আরও কয়েকজন ফরাসি লিগে খেলেছেন কিংবা ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক ফুটবল কাঠামোয় বেড়ে ওঠার পর জাতীয় দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন মরক্কোকে।
এই ফুটবলারদের পথচলা দুই দেশের ক্রীড়া-সম্পর্কের গভীরতাই তুলে ধরে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী মরক্কানদের শক্তিকে জাতীয় দলের বড় সম্পদে পরিণত করার সক্ষমতাও প্রমাণ করে। যার অন্যতম উদাহরণ তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের বেড়ে ওঠা লিল ক্লাবে। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন তিনি। পরে জাতীয় দল হিসেবে বেছে নেন মরক্কোকে। তার গল্পই দুই দেশের গভীর সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক।
২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি। অভিজ্ঞতা, পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড এবং আক্রমণভাগের শক্তিতে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে দিদিয়ের দেশমের দল। অন্যদিকে মরক্কো এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া দলটি এবারও প্রমাণ করেছে, তাদের সাফল্য কোনও চমক নয়। শিরোপার লড়াইয়ে অন্যতম দাবিদার তারা।
কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই দুই দলের শেষ দেখায় ২-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচ ছিল আবেগেপূর্ণ। তবে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা। মরক্কোর সাফল্য তখন সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছিল, আর ফ্রান্সের বহুজাতিক দলটি আবারও প্রমাণ করেছিল, বৈচিত্র্যই তাদের অন্যতম বড় শক্তি।
তাই বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল শুধু দুটি দলের লড়াই নয়। এটি ইতিহাস, ফুটবলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দুই দেশের অদৃশ্য বন্ধনের আরেক গল্প।








