বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আর্জেন্টিনা। কানসাসে শুক্রবারের অনুশীলনের আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও ফাকুন্দো মেদিনা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, তাদের পুরো মনোযোগ এখন শুধু সুইজারল্যান্ডকে ঘিরেই।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করা ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বলেন, ১এমন কোনও প্রতিপক্ষ নেই, যারা আমাদের চিন্তায় ফেলতে পারে। আমাদের পুরো মনোযোগ সুইজারল্যান্ড এবং নিজেদের ওপর। আমরা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছি। শুরুটা কিছুটা ধীরগতির হলেও ম্যাচে ম্যাচে আরও ভালো খেলছি।
শেষ দুই ম্যাচে আগে গোল হজমের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তিনি। লিসান্দ্র বলেন, ‘গোল হজম করা আমরা একদমই পছন্দ করি না। আরও মনোযোগী হতে হবে। সতর্ক থাকলে এই গোলগুলো এড়ানো সম্ভব। তবে ভালো দিক হলো, এসব ভুল এখনই হয়েছে। সেগুলো শুধরে নিয়ে আমরা পরের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল, যারা আর্জেন্টাইনদের দারুণভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের মধ্যে অসাধারণ ঐক্য আছে এবং সেটি নিয়ে আমরা গর্বিত।’
অপরদিকে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আসবে ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল থেকে। তবে সেই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
আর্জেন্টাইন এই সেন্টারব্যাক বলেন, ‘আমরা শুধু আগামীকালের ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। ম্যাচটা কঠিন হবে। কে কী বলল, সেদিকে আমাদের নজর নেই। সবারই নিজস্ব মতামত আছে, কিন্তু আমাদের সমস্ত মনোযোগ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে।’
শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণে উঠে গিয়ে গোল করার প্রসঙ্গে রোমেরো হাসতে হাসতে বলেন, ‘স্ট্রাইকার পজিশনে চলে যাওয়াটা ছিল মুহূর্তের সিদ্ধান্ত। দল যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকে, তখন এমন পাগলামি করতেই হয়। এটা কোচের সিদ্ধান্ত ছিল না। স্ক্যালোনি যদি আমাকে ওভাবে খেলতে দেখতেন, তাহলে হয়তো মেরেই ফেলতেন।’
তবে গোল করার চেয়ে নিজের মূল দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। রোমেরোর ভাষায়, ‘গোল করতে অবশ্যই ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়া। আক্রমণে অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে, তবে আগে রক্ষণ।’
শেষ দুই ম্যাচে চার গোল হজম নিয়েও আত্মসমালোচনা করেন টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো করছি, কিন্তু আরও উন্নতি করতে হবে। শেষ দুই ম্যাচে চারটি গোল খেয়েছি। আমরা যখনই গোল হজম করি, সেটা আমাদের কষ্ট দেয়। তবে আমরা সবাই প্রস্তুত আছি এবং কোচ যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই খেলব।’
কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে রোমেরো বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই কঠিন ছিল, আগামীকালও কঠিন হবে। সুইজারল্যান্ড কলম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ খেলেছে এবং তাদের ওপর আধিপত্যও বিস্তার করেছিল। তাদের দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আছে।’
এদিকে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর জায়গায় কয়েকটি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া ফাকুন্দো মেদিনা বলেন, ‘আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন কোচিং স্টাফ। নিকোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। প্রথমবার জাতীয় দলে খেলতে নেমে তার কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি পরামর্শ পেয়েছিলাম। যারা খেলবে না, তারাও সাইডলাইন থেকে দলকে সমর্থন দেবে।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই উল্লেখ করে মেদিনা বলেন, ‘আমাদের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। বিশ্বকাপে ছোট ছোট বিষয়ই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। শারীরিকভাবে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। তবে এই পর্যায়ে মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’








