ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ফাইনালে গেলো মেসিরা। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমাফাইনালে অসাধারণ এক কামব্যাকে সেমিফাইনাল জয় করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ৫৪ মিনিটে গোল খাওয়া আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে ফিরেছে ৮৫ মিনিটে। আর ৯২ মিনিটে জয়সূচক গোল করেছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এমন অসাধারণ কামব্যাক হয়েছিল আর মাত্র ৪ বার। সেগুলো কারা করেছে?
৭০-এর ঐতিহাসিক ম্যাচ
১৯৭০-এর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হারতে হারতে জয় তুলে নিয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। সেবার ৮ মিনিটে গোল করে ইতালি। এরপর আর গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনও দল। ৯১ মিনিটে সমতায় ফেরে পশ্চিম জার্মানি।
ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়। শুরুতেই ৯৪ মিনিটে গোল পায় জার্মানি। চার মিনিট পর সমতায় ফেরে ইতালি। এর ছয় মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় ইতালি। ম্যাচটি তখন হারার পথে পশ্চিম জার্মানি। তবে ইতালিকে হতাশায় ডুবিয়ে পশ্চিম জার্মানি ১১০ মিনিটে সমতায় ফেরে। সেখান থেকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় জার্মানরা। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটি জিতে যায় জার্মানি। এটা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক কামব্যাক হিসেবে লেখা রয়েছে।
দুই গোলের লিড রাখতে পারলো না ফ্রান্স
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আরেক ঐতিহাসিক কামব্যাকের ঘটনা ঘটেছে ১৯৮২ সালে। এবারও পশ্চিম জার্মানি দৃশ্যপটে। তবে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ম্যাচের ১৭ মিনিটে পশ্চিম জার্মানি এগিয়ে যায়। ২৭ মিনিটে সমতায় ফেরে ফ্রান্স। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর শুরুতেই ৯২ ও ৯৮ মিনিটে দুই গোল করে বসে ফ্রান্স। তখন ম্যাচের বাকি মাত্র ২২ মিনিট। দুই গোল পিছিয়ে পশ্চিম জার্মানি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই দুই গোল করে সমতায় ফিরে টাইব্রেকারে ৫-৪-এ ম্যাচ জিতে নেয় পশ্চিম জার্মানি।
ক্রোয়েশিয়ার রূপকথা হলো না
সেমিফাইনালে আরেক দুর্দান্ত কামব্যাক ঘটেছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। সেবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। ৪৬ মিনিটে গোলটি হজম করে ফরাসিরা। তবে ৪৭ ও ৬৯ মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় ফ্রান্স। ৭৬ মিনিটে ফ্রান্সের লরা ব্লাঙ্ক লাল কার্ড দেখলেও ১০ জনের দল নিয়ে জয় পায় ফ্রান্স।
আবারও ইংল্যান্ড
২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও কামব্যাক করে জয় তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেবার ইংল্যান্ড শুরুতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল পায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। আর অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের গোলে জয় তুলে ফাইনালে পা রাখে ক্রোয়েশিয়া।









