এবার বিপদেই পড়তে যাচ্ছে ফিফা। একদিকে ফিফার ২০ বিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা, অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রবল আপত্তি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
ইএসপিএনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফিফার ২০ বিলিয়ন ডলারের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে করণীয় নির্ধারণে, এমনকি সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই জরুরি বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নিয়েছে উয়েফা। এতে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অংশ নেবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ফুটবলের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নতুন প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ গঠন করা হচ্ছে। এই সংস্থা ভবিষ্যতে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এর জন্য বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনাও করেছে।
তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ফিফার পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে উয়েফা জানায়, ‘ফুটবল ফিফার বিক্রি করার সম্পদ নয়।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পত্তি নয়।’
ইএসপিএনের সূত্র অনুযায়ী, ফিফার এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে উয়েফার ভেতরে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। উয়েফা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। বিষয়টিকে উয়েফা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার এবং ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রত্যেকেরই একইভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’
একইভাবে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও কনকাকাফও ফিফার পরিকল্পনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
এর আগেও ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর অন্তর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। তবে উয়েফার সম্ভাব্য বয়কটের হুমকির মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সংস্থাটি। এবারও একই কৌশল প্রয়োগ করে ফিফার নতুন পরিকল্পনা ঠেকানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
